দিরাইয়ে নব দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু, সংকটে সহায়তা নেওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:২২ অপরাহ্ন
সিলেটের ওসমানীনগরে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে প্রায় পুরো উপজেলা। ঝড়ে শতশত গাছ উপড়ে পড়ার পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে। একইসঙ্গে সাতটি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল অধিকাংশ এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র কালবৈশাখী ঝড় অল্প সময়েই ভয়াবহ রূপ নেয়। শক্তিশালী বাতাসে অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়ে সড়ক ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর। এতে উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ওসমানীনগর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্র জানায়, ঝড়ে প্রায় একশ স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। এছাড়া ৫০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে তারের ওপর গাছ পড়ে থাকায় দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, মোবাইল চার্জ দিতে না পারা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
এদিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটে।
হস্তিদুর গ্রামের তোফায়েল মিয়া জানান, প্রায় ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছি। কখন আসবে জানি না। পানি সংকটসহ নানা সমস্যায় আছি।
তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ মিয়া জানান, ক্লাস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে ঝড়ের তাণ্ডবে একটি বড় গাছ বিদ্যালয়ের মাঠে উপড়ে পড়ে। তবে এতে কোনো শিক্ষার্থী আহত বা কোনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
ওসমানীনগর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো. নাইমুল হাসান জানান, উপজেলার প্রায় একশ স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে, ৫০টি মিটার ভেঙে গেছে এবং ৭টি খুঁটি ভেঙে গেছে। বিভিন্ন স্থানে তারের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ চালু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে ৭০ ভাগ বিদ্যুৎ চালু রয়েছে। বাকিগুলো চালুর জন্য কাজ চলছে।
ওসমানীনগর ঝড়, কালবৈশাখী সিলেট, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি, সিলেট আবহাওয়া