ঈদের ছুটিতে চা-বাগানের হাতছানি
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২০ মে, ২০২৫ ৮:৫৩ অপরাহ্ন
সিলেটে ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট এলাকার বিভিন্ন নিচু এলাকা। প্রবল স্রোতের তোড়ে গ্রামীন রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উজানের ঢলে অনেকের বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা বর্ষণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অবশ্য মঙ্গলবার ( ২০ মে) দুপুর থেকে বৃষ্টিপাত কমায় বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
এদিকে, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে জেলার প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারা ছাড়াও পিয়াইন, সারি ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সুরমা-কুশিয়ারায় প্রবল স্রোতে ঢুকছে ঢলের পানি। তবে নদ-নদীর পানি কোথাও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়নি।
অন্যদিকে, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে মঙ্গলবার সকালে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন এলাকায় তলিয়ে যায়। অনেকের বাসা-বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন মানুষজন।
ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ও লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে পাকা, ইটসলিং ও কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ায় সোমবার রাতেই পাহাড়ি ঢল নেমে কানাইঘাটের লোভা নদীতে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে লোভা নদী আরও হিংস্র হয়ে ওঠে। লোভার ঢল নেমে আরও উত্তাল হয়ে ওঠে সুরমা নদী।
এতে করে সুরমা নদীর পানি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে, ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে বন্যা পরিস্থিতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত লোকজনের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাও. জামাল উদ্দিন জানান, ভারি বর্ষণ ও ভারত সীমান্ত এলাকায় কয়েকদিন থেকে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারনে পাহাড়ি ঢলের পানি সুরই নদী, আমরি ও সিঙ্গারীখাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে তার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে করে সুরইঘাট টু বাঘরা দেড়শ ফিট মেকাডম করা রাস্তার কয়েকটি স্থানে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গোরকপুর জিসি সড়কের মাটির রাস্তা, সুরইঘাট টু মুলাগুল এলজিইডির পাকা সড়কের আব্দুল করিমের বাড়ির সামনে অংশ ভেঙে গেছে। এছাড়াও বাদশা বাজার সংলগ্ন পয়েন্ট থেকে ডগিরপার ইটসলিং রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে এবং কানাইঘাট-সুরইঘাট পাকা সড়কের লালমসজিদ রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, সকাল থেকে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামার খবর পেয়ে ৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে মানুষজন যাতে আশ্রয় নিতে পারেন সেজন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভারতের মেঘালয় ও আসামে টানা ভারী বর্ষণ এবং সোমবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে গোয়াইনঘাট উপজেলার ডাউকি, সারী ও পিয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢল পিয়াইন নদী হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এতে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা দ্রুত প্লাবিত হয়। পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ের ভাসমান দোকানগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এদিকে, সারী-গোয়াইনঘাট ও রাধানগর-গোয়াইনঘাট এবং সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক এলাকায়ও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনও মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠার খবর পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, উপজেলার সবক'টি ইউনিয়নে পানি উঠতে শুরু করেছে। এখনো কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। নিম্নাঞ্চলের মানুষদের আগে থেকেই সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়াও মানুষের জানমাল রক্ষায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সিলেট, বৃষ্টিপাত, পাহাড়ী ঢল, নিম্নাঞ্চল, প্লাবিত, নদনদীর পানি বাড়ছে, বন্যা, গ্রামীন সড়ক, ক্ষয়ক্ষতি