০২ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

জগন্নাথপুরে মুক্তিযোদ্ধার বসতঘর ভাঙচুর, অভিযোগের পরও নিশ্চুপ প্রশাসন

​প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৭:৪০ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বসতঘরে ভাঙচুর ও তছনছের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

 

ঘটনাটি উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুল্লাহ খানের বসতবাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে ঘরের বেড়া, আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘরের বেড়া, আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল ভাঙচুর করে। এসময় পরিবারের সদস্যদের সাথেও অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আব্দুল গফার বাদী হয়ে জগন্নাথপুর  থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগের পর বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি কোনো তদন্ত দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

 

 

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খান দেশ স্বাধীনের পর থেকে ইসলামপুর গ্রামের সরকারি জায়গায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে ওই জায়গায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খানের নামে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেওয়া হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ওই জায়গা জোরপূর্বক দখলের পায়তারা শুরু করেন। এ পর্যায়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খানের বড় ছেলে আব্দুল গফফারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। সে সময় পরিবারটি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

 

আব্দুল গফফার বলেন, ‘দেশ স্বাধীন করতে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন আমার পিতা কিন্তু আজ নিজ দেশে আমাদের  মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুও নিরাপদ নয়। থানায় বারবার ধরণা দিয়েও কোনো বিচার পাচ্ছি না। প্রশাসন নীরব থাকায় অপরাধীরা আমাদের কে  আরও হুমকি দিচ্ছে।’

 

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা এবং প্রশাসনের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

 

এ অবস্থায় দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। 

 

জগন্নাথপুর উপজেলা সম্মেলন কক্ষে সকাল ১০ টায় আইনশৃঙ্খলা সভায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ভাঙচুর প্রসঙ্গে আলোচনা স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমেদ প্রশাসন উদ্দেশ্যে দ্রুত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে নিরাপত্তা ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

 

উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মহসিন উদ্দিন বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত রয়েছি, সরজমিনে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের অভিযোগ পেয়েছি আমরা মামলা রেকর্ড করছি।

 


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

জগন্নাথপুর, মুক্তিযুদ্ধা, হামলা ও ভাঙচুর, লুটপাট, যুবদল নেতা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ