সিলেটের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নতুন আবাসনের আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর
রাজনীতি
প্রকাশঃ ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৪:০২ অপরাহ্ন
শিল্প ও বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিলেট নগরকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহরে রূপ দিতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সব সড়ক পর্যায়ক্রমে ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য আধুনিক বিনোদন পার্ক নির্মাণ এবং সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সিলেট থেকে মাদক ও জুয়া চিরতরে নির্মূলের লক্ষ্যেও কাজ করা হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) সকালে সিলেট নগরের শারদা স্মৃতি ভবনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মহানগরের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মহানগরের ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম ও ১ হাজার ২০১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বে এমন একজন প্রশাসককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আস্থা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে আগামী দিনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মান জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তাদের কল্যাণে সরকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। প্রথমত, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে যেন কোনো ইমামকে চাকরিচ্যুত করা না যায়, সে জন্য একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। দ্বিতীয়ত, ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা যাতে চার থেকে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন, সেই বিবেচনায় তাদের সম্মানী নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় তদারকি কমিটিতেও ইমামদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে উন্নয়ন কাজের গতি বাড়বে এবং জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা যে সম্মানী পান তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য কিছু সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারা ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন।
তিনি বলেন, সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে তাদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং চাকরি সুরক্ষার জন্য বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগর উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ২৭টি ওয়ার্ড ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ৪২টি হয়েছে। এত বড় নগরের সব সমস্যা এককভাবে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে সবার সচেতনতা জরুরি। ইমামরা যদি জুমার খুতবায় মানুষকে সচেতন করেন, তাহলে নগর পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ সহজ হবে। সবাই নিজ নিজ বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং খাল-ছড়ায় ময়লা না ফেললে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী, সিলেট, খন্দকার মুক্তাদির, বাণিজ্যমন্ত্রী, সরকার