০১ মে ২০২৬

ব্যবসা-বাণিজ্য / আমদানি-রপ্তানি

ভারতের নিষেধাজ্ঞা

সিলেটের শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানীতে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৯ মে, ২০২৫ ২:৩৩ অপরাহ্ন

ছবিঃ শেওলা স্থলবন্দর, সিলেট; সংগৃহীত

ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে সিলেটের শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে উল্লেযোগ্য অধিকাংশ পণ্য রপ্তানী বন্ধ রয়েছে। গতকাল রোববার (১৮ মে) সকাল থেকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা কোনো পণ্যই রপ্তানী হয়নি। আজ সোমবার সকাল থেকেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এতে করে বন্দরের রপ্তানি কার্যক্রমে এক ধরণের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। 


এদিকে, রপ্তানী না হওয়ায় গতকাল রোববার রপ্তানী পণ্য বহনকারী ১১টি ট্রাক বন্দরে আটকা পড়ে । তবে আজ কোনো ট্রাক আটকা পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। শেওলা স্থলবন্দরের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


গত শনিবার (১৭ মে) এক নির্দেশনায় ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) অফিস জানায়, বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ কয়েকটি পণ্য ভারতের নির্দিষ্ট কিছু স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে এসব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ।


এই নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরাও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই দেশের নীতিগত অসঙ্গতির কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।


শেওলা স্থলবন্দর সূত্র জানায়, এই বন্দর দিয়ে সাধারণত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, তৈরি পোশাক, ফল, প্লাস্টিক সামগ্রী, ফার্নিচার, কোমল পানীয় ও ক্রোকারিজ পণ্য রপ্তানি হতো। কিন্তু ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পণ্যের রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে।
ভারত সম্প্রতি শেওলা ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে রেডিমেড গার্মেন্টস, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কার্বনেটেড পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য (বেকড পণ্য, স্ন্যাকস, চিপস, মিষ্টান্ন), তুলা ও সুতির বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসি পণ্য এবং কাঠের আসবাবপত্র আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।


শেওলা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাহ আলম বলেন, ‘ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা স্থলবন্দর ব্যবহার করেই বেশিরভাগ পণ্য রপ্তানি করে। এভাবে রপ্তানি বন্ধ থাকলে উৎপাদন কমাতে হবে। এতে বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘যে পণ্যগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, সেগুলো খুব কম পরিমাণে ভারত আমদানি হয়। মূলত বেশি আমদানিকৃত পণ্যের ওপরেই তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যার কারণে বন্দরের অবস্থা এক ধরণের অচল।

 
শাহ আলম আরও বলেন, গতকাল রোববার রপ্তানি বন্ধ থাকায় ১১টি ট্রাক বন্দরে আটকা পড়ে। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কিছু পণ্য চালানের মূল্য আগেই টিটি করেছেন। তাই তারা বিশেষ অনুমতি নিয়ে কয়েকটি ট্রাক পণ্য আমদানি করেছেন। 


শেওলা স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহবুব হাসান বলেন, ‘ভারতের নিষেধাজ্ঞায় তালিকাভুক্ত পণ্য রপ্তানী ছাড়া বন্দরের অন্য সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দর দিয়ে রপ্তানি বন্ধ থাকার খবরে ব্যবসায়ীরা নতুন করে পণ্য পাঠাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।


শেয়ার করুনঃ

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরো পড়ুন

শেওলা স্থলবন্দর, ভারতের নিষেধাজ্ঞা, রপ্তানি বন্ধ, বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য, পণ্য আটকা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ