২১ এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতি / সরকার

প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিসভায় খন্দকার মুক্তাদির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২:৪৬ অপরাহ্ন

ছবিঃ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়ে নতুন চমক দেখিয়েছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন তিনি। এর আগে আজ সকালে প্রথমে এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। 

রাজনীতি ও ব্যবসা—দুই অঙ্গনেই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা এই বিএনপি নেতার মন্ত্রী হওয়াকে দলীয় মহলে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মেধা, নিষ্ঠা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল ব্যবসায়ী নেতা ও রাজনীতিবিদ হিসেবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন মুক্তাদির। এর আগে ২০১৮ সালে তিনি এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত খন্দকার আব্দুল মালিক ছিলেন বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা। পিতার জনসেবার আদর্শকে বুকে ধারণ করেই মুক্তাদির রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তার স্ত্রী জাকিয়া ইয়াসমিন, পুত্র খন্দকার আজওয়াদ আবরার এবং কন্যা খন্দকার রামিজা সামিহাত রয়েছেন।

সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে সফলভাবে স্কুলজীবন শেষ করার পর তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন (ফিন্যান্স) বিষয়ে স্নাতকোত্তর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান (সামাজিক বিজ্ঞান) বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খন্দকার মুক্তাদির বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

রাজনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক ও উৎপাদন শিল্পেও তিনি একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) সাবেক পরিচালক, তুরস্ক-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সুবিধা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। রপ্তানিমুখী ব্যবসায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহজীকরণে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সমাদৃত।

প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিলেটের মাটি ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং জাতীয় পর্যায়ে নীতি-নির্ধারণী দক্ষতার এই মেলবন্ধন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে আগামী দিনের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে।

মন্ত্রীসভায় ডাক পেয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সিলেটবাসী ও দেশবাসীর দোয়া চাইছি। দল যে আস্থা দেখিয়েছে, এর প্রতিদান যেন দিতে পারি।’


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, খন্দকার মুক্তাদির, সরকার, মন্ত্রী

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ