জাতীয় সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ
নির্বাচন
প্রকাশঃ ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৯:৪০ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ (ধানের শীষ)। এ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ১১ দলীয় জোটের দুই প্রার্থীসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
প্রবাসী অধ্যুষিত এ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন শুরুতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত সংগঠনিক ভিত্তি ও জোটগত সমর্থনের কারণে বড় ব্যবধানে জয় পান কয়ছর এম আহমেদ। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের সমর্থনও তাঁর পক্ষে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জানা যায়, এ আসনে সর্বশেষ ২০০৫ সালের উপনির্বাচনে (১৪ মাসের জন্য) ধানের শীষ প্রতীকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শাহীনুর পাশা চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় দলীয় জোট-সমীকরণের কারণে বিএনপি সরাসরি প্রার্থী দেয়নি। এবার দলীয় প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে দলের সাবেক জেলা সহসভাপতি, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন আঞ্চলিকতার ইস্যু সামনে এনে প্রচারণা চালান। বিএনপির একটি অংশ তাঁর পক্ষে মাঠে নামলেও শেষ দিকে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জে আঞ্চলিক ঐক্যের স্লোগান তুলে অধিকাংশ শ্রেণি-পেশার মানুষ কয়ছর আহমেদের পক্ষে অবস্থান নেন। এর প্রভাব পুরো আসনে পড়ে।
এবার ১১ দলীয় জোটের ভরাডুবি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। সচেতন মহলের মতে, একক প্রার্থী নির্ধারণে ব্যর্থতা ও দলবদলের প্রভাবেই জোটের দুই প্রার্থী ইমেজ সংকটে পড়েন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর শাহীনুর পাশা চৌধুরী। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে একাধিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে সম্মানজনক ভোট পেয়েছিলেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে শাহীনুর পাশা চৌধুরী ৫২ হাজার ভোট পান। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে দল পরিবর্তনের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও এবার জামানত হারান ওই প্রার্থী।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের আরেক প্রার্থী হিসেবে ‘ঈগল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সৈয়দ তালহা আলম। এর আগে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। নির্বাচনের আগে দলত্যাগ করে এবি পার্টিতে যোগ দেন। স্থানীয়ভাবে তৎপরতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনিও জামানত হারান। দলবদল ও জোটের অভ্যন্তরীণ অনৈক্য তাঁর ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে স্থানীয় ভোটার ও রাজনীতিবিদদের ধারণা।
সব মিলিয়ে সংগঠনিক শক্তি, জোট-সমীকরণ, আঞ্চলিক আবেগ এবং প্রতিপক্ষের বিভক্ত অবস্থানসহ নানা কারণে সুনামগঞ্জ–৩ আসনে বড় জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ।
সুনামগঞ্জ-৩ আসন, জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ, সিলেট, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন,