বিমানবন্দর থেকে নদী–হাওর: সিলেট নিয়ে ৮ প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের
সিলেটে জামায়াত প্রধান
প্রকাশঃ ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৪:৩০ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী কখনোই প্রতিশোধের রাজনীতি করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি বলেন, দলটির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি প্রতিশোধ নয়, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে তিনটায় সিলেট নগরের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ৫ আগস্ট এই জাতির জীবনে একটু স্বস্তি দান করলেন, আমরা কোনো মিছিল করিনি, কোনো মিটিং করিনি, উচ্চাসে ফেটে পড়িনি।”
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহতালার শুকরিয়া আদায় করার জন্য সেজদায় পড়ে গিয়েছিলাম।” এরপর দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা ঘোষণা করেছিলাম সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ওপর যত জুলুম করা হয়েছে, আজকের এই মুক্তির বিনিময়ে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলছি, একজন জালিমের বিরুদ্ধে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রতিশোধ নেবে না।”
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, দল হিসেবে সেই ঘোষণা বাস্তবে অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কথা রেখেছি। দল হিসেবে কারো থেকে কোনো প্রতিশোধ নেইনি।”
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা খুন হয়েছেন, আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন কিংবা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের আদালতে গিয়ে ন্যায়বিচার চাওয়ার এবং পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও তিনি সতর্ক করে বলেন, মামলা করতে গিয়ে একজন নিরপরাধ মানুষের নাম যেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করা হয়।
মামলার সংখ্যা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সারাদেশে আমরা লাখ লাখ, হাজার হাজার মামলা করি নাই। সব মিলাইয়া প্রায় ৭৫০টির মতো মামলা হয়েছে।” তিনি জানান, “আটটা মামলায় একজন করে মাত্র আসামি আছে। দ্বিতীয় কোনো আসামি আমরা খুঁজে পাই নাই, তাই নাম লেখি নাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মীরা সংযম দেখিয়েছেন। আমাদের কর্মীরা আমাদের কথা রেখেছে আলহামদুলিল্লাহ। তবে তিনি অভিযোগ করেন, অনেকে শত শত মানুষ, এমনকি হাজারো মানুষকে মামলায় ঢুকিয়ে মামলা বাণিজ্য করেছে।
সিলেটবাসীর উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা আমাদের পুরোনো বন্ধুদের অনুরোধ করেছিলাম আমরা যারা এতদিন মজলুম ছিলাম, মেহেরবানি করে কেউ যেন জালিম না হয়।” তিনি আরও বলেন, “যারা সেই কথা রেখেছে, তাদের অভিনন্দন। যারা রাখতে পারেননি তাদের ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ তাদের নিজস্ব বিবেকের আয়নায়, বিবেকের আদালতে তাদের বিচার করবে। আমাদের এখানে বলার কিছু নেই।
শফিকুর রহমান, সিলেট সমাবেশ, জামায়াত আমীর, ভোটাধিকার, ১১ দলীয় জোট