২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ছুরিকাঘাতে তিনটি পরিবারে নেমে এসেছে চরম উৎকণ্ঠা ও মৃত্যুর শঙ্কা। প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তাঁর ভাইসহ তিনজন এখন সিলেটের এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন বীরগাঁও গ্রামের ইউপি সদস্য জুবায়ের আহমদ, তাঁর ভাই ইউনিয়ন যুবদলের নেতা জাহিন আহমদ এবং তাহসিন নামের এক তরুণ। তাঁদের মধ্যে জাহিন আহমদ ও তাহসিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও স্বজনেরা। আহত আরেক কিশোর দিহান স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বীরগাঁও গ্রামের কৃষ্ণতলা মাঠে মাহিন নামের এক কিশোরকে মারধোর করেন স্থানীয় বাজারের বিকাশ ব্যবসায়ী নাহিদ আহমদ ও তাঁর বাবা সইফুর রহমান। এ ঘটনার পর মাহিনের স্বজনেরা বিষয়টি জানতে সন্ধ্যার দিকে পশ্চিমপাড়া বাজারে নাহিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাহিদ আহমদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও ছুরি নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ইউপি সদস্য জুবায়ের আহমদ, তাঁর ভাই জাহিন আহমদ, মোদি দোকানি তাহসিন ও দিহান নামের এক কিশোর গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিন আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও তাহসিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকদের ভাষ্য, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জাহিন ও তাহসিনের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আহতদের স্বজন দুলাল আহমদ বলেন, ‘তিনজনেরই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু শরীরের ভেতরের জটিল আঘাতের কারণে চিকিৎসকেরা এখনো ঝুঁকিমুক্ত বলতে পারছেন না। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য আতঙ্কের।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে এমন ভয়াবহ পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আমরা হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি তৈরি ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় বিকাশ ব্যবসায়ী নাহিদ আহমদসহ চারজনকে আসামি করে শান্তিগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলিউল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, অপরাধ