কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশি যুবক নিহত, দাবি পরিবারের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ৩:০৯ অপরাহ্ন
সিলেট–ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সিলেটিরা। বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার অঞ্চলে বসবাসরত সিলেটের স্থায়ী প্রবাসী এবং ইউকে এনআরভি সোসাইটি ও নর্থ ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলরস ফোরামের নেতারা।
এসময় স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন, ইউকে এনআরভি সোসাইটির পরিচালক মিজানুর রহমান, এম জুনেদ আহমেদ ও জামাল উদ্দিন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আগামী ১ মার্চ থেকে সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই রুটের টিকিটিং সিস্টেমও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এতে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক সিলেটি প্রবাসী চরম ভোগান্তির মুখে পড়বেন। একই সঙ্গে সিলেটেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে পুনরায় চালু হওয়া এই রুটটি শুরুতে কিছু সমস্যার মুখে পড়লেও গত হজ মৌসুমের পর থেকে ফ্লাইটটিতে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে বিজনেস ক্লাসসহ প্রায় সব সিট পূর্ণ থাকছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৭–৮ লাখ সিলেটি প্রবাসীর জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর যোগাযোগমাধ্যম।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, এই রুট চালু থাকলে যাত্রীরা ১২–১৩ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে পৌঁছাতে পারেন। কিন্তু ফ্লাইট বন্ধ হলে ঢাকা হয়ে দীর্ঘ যাত্রা করতে হবে, এতে সময় লাগবে ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুরা। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণের কারণে অনেক প্রবাসী দেশে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন।
বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি জানিয়েছে, সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটটি লোকসান হওয়ায় সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে। এ যুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, যে রুটে প্রায় ৮৩ শতাংশ সিট নিয়মিত পূরণ হয়, সেটি কীভাবে লোকসানি হতে পারে—তা বোধগম্য নয়। অধিকাংশ যাত্রী ৭০০–৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১২০০ থেকে ১৫০০ পাউন্ডে কিনছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এসময় তারা দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার প্রায় ২০ হাজার এবং ম্যানচেস্টার থেকে সিলেট প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে বাংলাদেশ বিমান। এই সময়ে মোট ৪৫ হাজার আসনের বিপরীতে ৩৮ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, রুটটি কখনোই যাত্রীসংকট বা লোকসানে ছিল না।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিমানের ভেতরে একটি অসাধু চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে এই রুটকে লোকসানি দেখানোর চেষ্টা করছে। তাই লাভজনক এই রুট বন্ধ না করে বরং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সিলেট–ম্যানচেস্টার, ফ্লাইট, বন্ধ, সিদ্ধান্ত, পুনর্বিবেচনা, দাবি, প্রবাসী