প্রবেশপত্র না পেয়ে দাখিল পরীক্ষা দিতে না পারার অভিযোগ এক শিক্ষার্থীর
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ ১:২৫ পূর্বাহ্ন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ এখনও বহাল থাকায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ আয়োজন সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের তাড়নায় আন্দোলন শুরু করেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারসহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা নিজের অফিসে অবরুদ্ধ থাকেন। প্রশাসনিক ভবনের অবরোধ কবে প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তখন পর্যন্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।
এর আগে দুপুর সোয়া ২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন। তিন ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধে দুই জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হয়ে সাধারণ যাত্রী ও শ্রমজীবী মানুষদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা একটি লেন যান চলাচলের জন্য ছেড়ে দিলেও যানজট পুরোপুরি নিরসন হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। পরে শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বিবেচনায় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবন ও গোলচত্বরে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
আন্দোলনে অংশ নেয় ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের স্লোগান দেন, যেমন ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘শাকসু কয় তারিখ, ২০ তারিখ’, ‘মোব করে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’।
দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, হাইকোর্টের রায়ের কারণে বহু প্রতীক্ষিত শাকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বিবেচনায় আমরা সড়ক থেকে সরে এসেছি, তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমাদের একটাই দাবি—আগামীকালই শাকসু নির্বাচন চাই।
আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন গণিত বিভাগের প্রধান ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে নিরাপদে সরে যেতে সহায়তা করেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিম বলেন, যার রিটের কারণে ২৮ বছর পর হতে যাওয়া শাকসু নির্বাচন স্থগিত হয়েছে, তাকে আমরা ক্যাম্পাসে স্বাগত জানাবো না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে শুনানি হবে।
গত সোমবার দুপুরে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শাকসু নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন। আগামীকাল (২০ জানুয়ারি) ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল।
নির্বাচনের স্থগিতাদেশের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক ভবনে তালা, সড়ক অবরোধ ও ক্যাম্পাসে টানা বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে তারা ভোট যথাসময়ে আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শাকসু, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি)