
দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিল কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন। নানা প্রতিবন্ধকতা, বারবার তারিখ পেছানো আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অধ্যায় পেরিয়ে আগামী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের আগের দিন সোমবার এক বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থীর করা রিটের রায়ে হাইকোর্ট শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করে দেওয়ায় আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন।
হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার খবরে ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হতাশা ও উদ্বেগ। যে নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পোস্টার, প্রচারণা ও প্যানেলভিত্তিক কর্মসূচিতে মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয়, মুহূর্তেই সেই দৃশ্য বদলে যায়।
শাকসু নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের বিপরীতে ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন। ভিপি পদে ৪ জন, জিএস পদে ৭ জন ও এজিএস পদে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। পাশাপাশি হল সংসদের ৯টি করে পদের বিপরীতে ছেলে ও ছাত্রী মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী তালিকাভুক্ত হন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনটি প্যানেলও গড়ে ওঠে, যার মধ্যে শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’। এ ছাড়া বিভিন্ন পদে ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ ফিরে পাওয়ার আশায় প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন প্রার্থীরা।
ভিপি, জিএস ও এজিএস এই তিন শীর্ষ পদে ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচনা। কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি হল সংসদেও অনেক জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বেশ কিছু পদে প্রার্থী স্বল্পতার কারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোতে অধিকাংশ পদেই একজন করে প্রার্থী ছিলেন।
সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে এসে আদালতের আদেশে সব প্রস্তুতি স্থবির হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বলছেন, ২৮ বছর পর নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি বড় অগ্রগতি। কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশে সেই প্রত্যাশা আবারও থমকে গেল। অনেকের আশঙ্কা, অতীতের মতো এই নির্বাচনও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যেতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়েল বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিম বলেন, সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে এসে একটি দলের ইচ্ছে নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেল। এটি আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না, ২০ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে আর কবে শাকসু হবে নাকি আরও ২৮ বছর পর নির্বাচন পরে সেটি আমরা কেউ জানি না। প্রশাসন শুরু থেকেই নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করেছে আমরা প্রতিবাদ করে নির্বাচনের তারিখ আদায় করেছিলাম কিন্তু এটিও আর হল না।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী করণীয় কী হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। হাইকোর্টের আদেশের পর নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রশ্নই এখন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
শিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী দেলোয়োর হাসান শিশির জানান, হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আমাদের ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা জন্য আমি এককভাবে দায়ী বলব প্রশাসনকে, তারা ইচ্ছে করেই যে নির্বাচন ডিসেম্বরে দেয়া যেত সেই তারিখ পরিবর্তন করে ২০ জানুয়ারি করেছেন, ভিসি স্যার নিজেইতো বলেছেন একটি দল উনার রুমে গিয়ে বলে এসেছিল শাকসু জাতীয় নির্বাচনের পর দিতে, সেই সময় তারা বলেছিলেন নিজের জীবন দিয়ে হলেও নির্বাচন করাবেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই যারা নির্বাচন পেছাতে চেয়েছিল তারাই জয়ী হয়েছে তাদের ইচ্ছেতেই নির্বাচন এখন অনিশ্চিত।
শেয়ার করুনঃ
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, শাকসু, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাইকোর্ট, ভোট


