প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সিলেটে উৎসবের আমেজ
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ন
নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সিলেট সফরকে ঘিরে পুরো নগরজুড়ে এখন ব্যস্ততা, প্রস্তুতি আর এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী ২ মে নির্ধারিত এই সফরকে সামনে রেখে প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে চলছে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সফরকে সফল করতে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সিলেট নগরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। রাস্তা মেরামত, সড়কের পাশে গাছপালা ছাঁটাই, সরকারি ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন সবকিছুতেই দেখা যাচ্ছে তৎপরতা। সিলেট সিটি কর্পোরেশন অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষ করে সিলেট সার্কিট হাউস এলাকায় চলছে জোর প্রস্তুতি। রং করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশা নিধন কার্যক্রমসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক দপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী যাবেন হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার শরীফ-এ, যেখানে তিনি জিয়ারত করবেন। সিলেটের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে এই সফরের একটি প্রতীকী সম্পর্ক রয়েছে।
এরপর তিনি বাসিয়া নদী পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্পটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং নদী পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ক্রীড়া কার্যক্রম উদ্বোধন এবং একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধনের কথাও রয়েছে।
চাঁদনীঘাট এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্পের উদ্বোধনও এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সার্কিট হাউস সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী আলিয়া আমজদের ঘড়ি এলাকাও সাজানো হচ্ছে নতুনভাবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত অবস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচি। সিলেট শিল্পকলা একাডেমি-তে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে স্থানীয় রাজনীতি ও সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, নজরদারি এবং প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি স্থান আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে শুধু প্রশাসনিক নয়, জনমানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে স্বাগত ব্যানার, আলোকসজ্জা এবং দলীয় কর্মসূচির কারণে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অতীতেও সিলেটে তাঁর সফর ঘিরে এমন জনসমাগম ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
চাঁদনীঘাট এলাকার ব্যবসায়ী বর্মণ দাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসছেন এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। শহরজুড়ে যে প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা চলছে, তাতে একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আশা করছি, এই সফরের মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়নে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরকে ঘিরে পুরো সিলেটবাসী প্রস্তুত রয়েছে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে বৈঠক করবেন। সেখানে দলকে সাংগঠনিকভাবে পরিচালনার বার্তা দিবেন তিনি। এছাড়া বরাবরই তারেক রহমানকে সিলেটবাসী আনন্দের সাথে বরণ করেছেন এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সিলেট আসছেন আমি আশা করি মানুষ উনাকে দেখার জন্য অধির আগ্রহে বসে আছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সিলেট নগরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
সিলেট, প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান, সিলেট সিটি করপোরেশন, পুলিশ, উৎসব