দিরাইয়ে মদসহ আটক এক
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ১:৩১ অপরাহ্ন
সিলেটের জকিগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সভাস্থল থেকে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদকে হেনস্তা করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার জেরে কয়েক ঘণ্টা ইউএনও কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখা হয় সমন্বয়ক পরিচয়ধারী ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদকে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত পর্যন্ত প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউএনও মাসুদুর রহমান জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি জরুরি সভা আহ্বান করেন। সভাস্থলে সমন্বয়ক পরিচয়ধারী ছাত্রদল নেতা ও একটি রাজনৈতিক মামলার বাদী জাফর আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হন। তারা মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মানিকপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ মিছিলসহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। এ সময় সমন্বয়ক পরিচয়ধারী জাফর আহমদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার্থে জাফর আহমদ ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর সাধারণ মানুষ ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকের সময় জাফর আহমদ কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
বৈঠক চলাকালীন সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী জাফর আহমদ দাবি করেন-ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদ আওয়ামী লীগের নেতা।
তবে এ দাবির বিরোধিতা করে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, ‘আব্দুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাও নন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে তা হবে অমঙ্গলজনক।’
এদিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল ইউএনও কার্যালয় থেকে ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে।
যোগাযোগ করা হলে সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমেদ বলেন, 'জকিগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে কোনো কমিটি নেই। তবে জাফর অতীতেও ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন, এখনো আছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে জাফর সক্রিয় ছিলেন। সে সময় তিনি আহত হয়েছিলেন।'
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আটক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই, তদন্তেও আপাতত কিছু পাওয়া যায়নি এবং নতুন কোন অভিযোগও দায়ের করা হয়নি।’
ইউএনও কার্যালয়, জনপ্রতিনিধি, পুলিশে সোপর্দ, প্রতিবাদ, সমন্বয়ক, অবরুদ্ধ