সিকৃবিতে এক্স-জেসিডি ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একমাত্র এবং সিলেট বিভাগের প্রথম শহীদ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রুদ্র সেন। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে শাবিপ্রবিতে উদ্বোধন করা হয় ‘শহীদ রুদ্র সেন লেক’।
কিন্তু উদ্বোধনের ছয় মাস পার হলেও লেকের আশপাশে নেই শহীদের কোনো স্মৃতিচিহ্ন বা ফলক। উল্টো লেকের কিছু অংশ ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণ করা হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই লেকটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা নতুন এই লেককে শহীদ রুদ্র সেনের নামে ‘রুদ্র সেন লেক’ হিসেবে ঘোষণা করলাম। রুদ্রের আত্মত্যাগের একটি বাস্তব নিদর্শন হিসেবে এই লেক তাঁর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখবে।’ একই বছরের ১৮ জুলাই শহীদ রুদ্র সেনের মৃত্যুবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় লেকটির আরও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস সময় পার হলেও লেকের পাড়ে কিংবা আশপাশে শহীদ রুদ্র সেনকে স্মরণ করে কোনো স্মৃতি ফলক, নামফলক বা তথ্যফলক স্থাপন করা হয়নি। লেকের মাঝখানে ‘সাস্ট’ লেখা একটি নামফলক থাকলেও শহীদের নাম বা পরিচয়ের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। ফলে বাইরের দর্শনার্থীরা এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাধারণ লেক হিসেবেই দেখছেন।
এদিকে লেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পরিবর্তে এর কিছু অংশ ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে। গ্যারেজ নির্মিত হলে গাড়ি ধোয়ার পানি ও বর্জ্য লেকের পানিতে মিশে ইকোসিস্টেমের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
বিজয় দিবসে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা হবিগঞ্জের আকাশ আহমেদ নামে এক পর্যটক বলেন, ‘লেকটি দেখতে সুন্দর, ধুলোয় ভরা ক্যাম্পাসের মধ্যে এখানে এসে ভালো লাগে। কিন্তু এটি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদের নামে, তা জানতাম না। প্রশাসনের উচিত ছিল এমন কোনো স্মৃতিচিহ্ন রাখা, যাতে সবাই বুঝতে পারে এটি একজন শহীদের স্মৃতি বহন করছে।’ চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক নুরুজ্জামানও একই ধরনের মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনে শাবিপ্রবির প্রথম আহত দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, ‘রুদ্র সেন সিলেট বিভাগের প্রথম শহীদ এবং সাস্টের একমাত্র শহীদ। তাকে যেভাবে স্মরণ করা উচিত ছিল, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের নাম তার নামে রেখেছিলাম। পরে লেকের নামকরণ হলেও যথাযথভাবে স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ না করা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাবিপ্রবির আহ্বায়ক পলাশ বখতিয়ার বলেন, ‘রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য আমরা স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতি ফলক নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলাম। প্রশাসন একাধিকবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কিছুই করা হয়নি। এতগুলো হলের নাম পরিবর্তন হলেও একটি হলও রুদ্র সেনের নামে করা হয়নি। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ঘোষিত ‘শহীদ রুদ্র তোরণ’-ই রুদ্রের একমাত্র দৃশ্যমান স্মৃতি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, ‘আমরা জুলাই আন্দোলন ধারণ করি। জুলাই আন্দোলনে আমরা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছি। জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে আমরা গত বছর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরিতে সিলেটের জুলাই শহীদদের নাম দিয়েছি। রুদ্র তো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে। তাঁর স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখার জন্য আমাদের পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘আর্কিটেক্টদের দিয়ে কিছু নকশাও করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তা বাস্তবায়ন হবে। তাছাড়া তাঁর পরিবারের সাথেও আমরা দেখা করেছি। তাঁর পরিবারের জন্য আমরা সহযোগিতা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা সব সময় অব্যাহত রাখব।’
শাবিপ্রবি, সিলেট, শহীদ রুদ্র সেন লেক, স্মৃতিফলক