আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, উবায়দুল্লাহ ফারুককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
নির্বাচন
প্রচার-প্রচারণা না থাকার অভিযোগ
প্রকাশঃ ৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ৩:৫৯ অপরাহ্ন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রথমবারের মতো গণভোট। সরকারিভাবে গণভোট নিয়ে প্রচার-প্রচারণার কথা বলা হলেও সুনামগঞ্জে এর বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তফসিল ঘোষণার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও জেলার অধিকাংশ সাধারণ ভোটারের কাছে গণভোটের বিষয়টি এখনো অস্পষ্টই রয়ে গেছে।
সংসদ নির্বাচনের ভোট নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ থাকলেও গণভোটে কী বিষয়ে, কেন এবং কীভাবে ভোট দিতে হবে-তা অনেকেই জানেন না। সচেতন মহলের অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা না থাকায় সাধারণ মানুষ গণভোটের তাৎপর্য বুঝতে পারছে না। যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, গণভোট বিষয়ে প্রচারণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চারটি মূল প্রশ্নের ওপর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে গণভোটে। প্রশ্নগুলো হলো-তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, ৩০টি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সংশোধনী। তবে এসব বিষয় সাধারণ ভোটারদের কাছে পরিষ্কার নয় বলেই মত সংশ্লিষ্টদের।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২০ লাখ ৭১ হাজার ২২ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৬৪৬ জন, সুনামগঞ্জ-২ এ ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৫৩ জন, সুনামগঞ্জ-৩ এ ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১১ জন, সুনামগঞ্জ-৪ এ ৩ লাখ ৭২ হাজার ২৭৩ জন এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ভোটার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৯ জন। এর আগে জেলায় মোট ভোটার ছিল ১৯ লাখ ২২ হাজার ১৬৯ জন।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়ার বাসিন্দা হোসাইন আহমদ বলেন, ‘আমরা তো ব্যালট পেপারে ভোট দিতে অভ্যস্ত। কিন্তু গণভোট আসলে কী—তা জানি না। শহরে এ বিষয়ে কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি। মানুষকে আগে বোঝানো দরকার।’
তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি গ্রামের শাহীন আহমদের ভাষায়, ‘শুধু জানি “হ্যাঁ” বা “না” ভোট দিতে হবে। এর বেশি কিছু বুঝি না। ক্যাম্পেইন না হলে সাধারণ মানুষ বিষয়টা ধরতেই পারবে না।’
নতুন ভোটার মরিয়ম বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘শুনেছি এবার দুইটা ভোট দিতে হবে। কিন্তু গণভোট কেন দেব, সেটাই তো বুঝি না।’
হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা তুলে ধরে জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক গ্রামের কৃষক পরশমণি চৌধুরী বলেন, ‘গণভোট কেন হবে, সেটাই পরিষ্কার না। দুর্গম হাওরের মানুষ কিছু জানে না। কোথাও কোনো নির্দেশনা পাইনি।’
বিশ্বম্ভরপুরের দ্বিগেন্দ্র বর্মণ সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মশিউর রহমান বলেন, ‘গণভোটে যে চারটি বিষয় উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। এসব বোঝাতে হলে ব্যাপক প্রচার দরকার, কিন্তু তা চোখে পড়ছে না।’
তবে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, গণভোট নিয়ে প্রচারণার জন্য জেলার ৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনকে বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগানোর কথাও বলা হয়েছে। তিনি জানান, নিজেও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘গণভোটে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, “হ্যাঁ” দিলে কী সুবিধা মিলবে আর কেউ যদি সে সুবিধা না চান তাহলে “না” দিতে পারবেন-এই বিষয়গুলো মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে।’ তিনি জানান, বুধবার ভোটের গাড়ি সুনামগঞ্জে এসেছে এবং ওইদিন বিকেলে দিরাই, শাল্লা, ছাতক ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় যাবে।
গণভোট, সুনামগঞ্জ, ভোটার, জাতীয়, সংসদ, নির্বাচন