আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে জনপ্রতিনিধি হতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) হলফনামা দাখিল করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও কৃষি পেশার ব্যক্তিরা এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আয়, সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক অবস্থার ক্ষেত্রে রয়েছে বৈচিত্রতা।

 

হাওর অধ্যুষিত এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন সাতজন প্রার্থী। তবে যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার (৩ জানুয়ারি) একজনের মনোনয়ন বাতিল বলে ঘোষণা করেন সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

‎‎

‎হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ-২ আসনে সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭১ টাকা। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ টাকা।


অন্যদিকে, আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে উঁচু অবস্থানে রয়েছেন জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির। যদিও তাঁর নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। তবে হলফনামায় দাখিলকৃত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ৫২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। 

‎আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই প্রার্থী। হলফনামা অনুযায়ী, সাবেক সাংসদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী পেশায় কৃষক এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তাঁর নামে তিন একর জমি রয়েছে। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা, যার বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ টাকা।


‎অন্যদিকে অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং পেশায় আইনজীবী। তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ টাকা, যা নাছির উদ্দিন চৌধুরীর তুলনায় কম। তবে সম্পদের দিক থেকে তিনি অনেক এগিয়ে। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭১ টাকা। কৃষি ও অকৃষি মিলিয়ে স্থাবর সম্পদের মূল্য ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

‎আসনটিতে আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। হলফনামা অনুযায়ী, পেশায় আইনজীবী শিশির মনিরের স্থাবর কোনো সম্পদ না থাকলেও তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৫১ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৫২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা এই আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

‎এদিকে আয় এবং সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শোয়াইব আহমদ। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং পেশায় শিক্ষক ওই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম। একইভাবে সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছেন তিনি। তিন ভরি স্বর্ণসহ স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। 

‎আসনটিতে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. শাখাওয়াত হোসেন। পেশায় ব্যবসায়ী ওই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

‎অন্যদিকে প্রার্থীতার তালিকায় সম্পদ ও আয়ের দিক থেকে সর্বনিম্ন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী নিরঞ্জন দাস খোকন। এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও এলএলবি ডিগ্রিধারী পেশায় আইনজীবী ওই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তাঁর নামে কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তবে তাঁর অর্জনকালীন ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য ১২ লাখ টাকা।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

হলফনামা বিশ্লেষণ, সুনামগঞ্জ-২ আসন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী, শিশির মনির, তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল, দিরাই-শাল্লা