প্রবেশপত্র না পেয়ে দাখিল পরীক্ষা দিতে না পারার অভিযোগ এক শিক্ষার্থীর
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৯:৩৫ অপরাহ্ন
শিল্পদূষণ, নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), হবিগঞ্জ’-এর উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-এর সদস্য সচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল।
এ ছাড়া শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. শাকির আহম্মদ। তিনি সুতাং নদীর পানি ও মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা যায়, সুতাং নদীর পানিতে প্রতি লিটারে ৬.৬৭ থেকে ৪৬.৬টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। এসব কণার মধ্যে খণ্ডাংশ ও ফাইবারের আধিক্য বেশি এবং আকার মূলত ০.১ থেকে ০.৫ মিলিমিটারের মধ্যে।
গবেষণায় আরও উঠে আসে, সুতাং নদীর ৩০টি মাছের পরিপাকতন্ত্রে মোট ৫১টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। গড়ে প্রতিটি মাছে প্রায় ১.৭টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। বড় আকারের মাছ তুলনামূলকভাবে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করে, যা খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ ও দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত পরিবেশে বসবাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্লেষণে পলিথিন (PE), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (PET), পলিআমাইড (PA) ও সেলুলোজ অ্যাসিটেট (CA) ধরনের প্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, যা প্লাস্টিক প্যাকেজিং ও বস্ত্রশিল্প থেকে সৃষ্ট দূষণের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল হবিগঞ্জ অঞ্চলের পরিবেশ দূষণ নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, নদী দখল, শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ ও অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে হবিগঞ্জের নদ-নদী ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, নদী ও জলজ পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ ভবিষ্যতে মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের গবেষণা দেশের মিঠাপানির পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে শরীফ জামিল বলেন, হবিগঞ্জের শিল্পদূষণ বহু আগেই মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। সুতাং নদীর পাশাপাশি সোনাই-বলভদ্র, খড়্কির খাল, রাজখাল ও শৈলজোড়া খালসহ এ অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য মেঘনা নদীতে গিয়ে পড়ছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও বহু গ্রাম শিল্পবর্জ্যে দূষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা নীতিনির্ধারকদের শিল্পদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদ-নদী পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করবে।
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সুতাং নদী, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ, শিল্পদূষণ, নদ-নদীর পরিবেশ