২৩ এপ্রিল ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / ক্যাম্পাস

দীর্ঘ ২৭ বছর পর শাকসু, কিন্তু ভবনের অপেক্ষা এখনও

আশিকুর রহমান আশিক, প্রতিনিধি, শাবিপ্রবি

প্রকাশঃ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২:২২ অপরাহ্ন


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবারও ফিরছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু)। মনোনয়ন বিতরণ ও জমাদান শেষে ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। আগামী ২০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন ঘিরে উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মৌলিক প্রশ্ন নির্বাচিত শাকসু প্রতিনিধিরা বসবেন কোথায়? কারণ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শাকসুর কোনো ভবনই নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোলচত্বরের পাশে অবস্থিত শাকসুর স্থায়ী ভবনটি ২০০৫ সালে ছাত্রদল নেতা লিটন হত্যাকাণ্ডের পর ভেঙে ফেলা হয়। পরে একাডেমিক ভবন ‘এ’-এর পেছনে একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটিও দুই বছর আগে অপসারণ করা হয়। ফলে এখন শাকসু ভবনের কোনো অস্তিত্ব নেই শাবিপ্রবি প্রাঙ্গণে।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সিনিয়র সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে শাকসু নির্বাচন না হওয়া এবং একই সঙ্গে শাকসু ভবন না থাকার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার বড় ঘাটতির প্রতিফলন। তাঁর ভাষায়, কার্যকর ছাত্র সংসদ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশ, নেতৃত্ব বিকাশ ও জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়। ভবন না থাকা মানে এই কাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করে রাখা।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাবিপ্রবি আহ্বায়ক পলাশ বখতিয়ার বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন–সংগ্রামের ফল হিসেবেই শাকসু নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের পরবর্তী দাবি হবে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে শাকসু নির্বাচন আয়োজন এবং দ্রুত একটি স্থায়ী শাকসু ভবন নির্মাণ। ছাত্র সংসদকে ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করলেই বিদ্যমান রাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলো দূর করা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এছাক মিয়া বলেন, শাকসু প্রতিনিধিদের বসার জায়গা নিয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা হয়নি। তবে নির্বাচন শেষে তাদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। উপাচার্যের কাছে থাকা কোনো জায়গায় সাময়িকভাবে ব্যবস্থা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, শাকসু ভবন নিয়ে এখনো বিস্তারিতভাবে ভাবা হয়নি। তবে ভবন নির্মাণ একদিনে সম্ভব নয়, পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। নির্বাচন সামনে থাকায় আপাতত প্রতিনিধিদের জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, শাবিপ্রবি, শাকসু, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ