০২ মে ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / জীববৈচিত্র

হাওরে কমছে পরিযায়ী পাখি, শিকার-ফাঁদে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:৫৬ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে শীত নামতেই আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে পাখি শিকারিরা। হাওরের মাঠে-মাটিতে পাতা ফাঁদ আর জালে দেশীয় প্রজাতির পাখির সঙ্গে পরিযায়ী পাখিও শিকার হচ্ছে নির্বিঘ্নে। এতে যেমন কমছে অতিথি পাখির আগমন, তেমনি হুমকিতে পড়ছে স্থানীয় পাখিদের টিকে থাকা। পরিবেশবাদীরা বলছেন, জনসচেতনতার পাশাপাশি দরকার কঠোর নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ।

টাঙ্গুয়ার হাওর যেখানে একসময় শীত এলেই ভরে যেত হাজারো পরিযায়ী পাখির কলতানে—এখন সেই দৃশ্য আর তেমন দেখা যায় না। বার্ডস ক্লাবের তথ্য বলছে, গত দশ বছরে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পাখির সংখ্যা কমেছে প্রায় ৮৫ শতাংশ। ২০১৫ সালে যেখানে ছিল প্রায় দুই লাখ পরিযায়ী পাখি, ২০২৪ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২৩ হাজারে, হাওরের ইতিহাসে যা সবচেয়ে কম উপস্থিতি।

হাওরের মানুষের ভাষায়, টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু জল–জমি–জীবন নয়, এ হাওর পাখিদেরও স্বর্গ। সেই স্বর্গ আজ শিকার, ফাঁদ ও মানবচাপের কারণে বিপন্ন। স্থানীয়দের আশা প্রশাসন, পরিবেশবাদী ও সচেতন মানুষের যৌথ উদ্যোগেই আবারও ফিরবে অতিথি পাখির পুরোনো কোলাহল।

স্থানীয়রা বলছেন, পাখি শিকার, পর্যটকদের লাগামহীন চলাচল, হাওরে অবৈধভাবে গাছ কেটে ফেলা সব মিলিয়ে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা আহমদ কবির বলেন, এক সময় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি দেখা যেতো। এখন সেসব পাখি আর চোখে পড়ে না। হাওরে পাখির থাকার মতো পরিবেশই নেই।

সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে পাখি শিকারের প্রমাণও মিলেছে। সদরের বারোঘর এলাকায় কৃষিজমির ওপরে লম্বা সুতোর ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা বিষয়টি স্বীকার করলেও শিকারিদের পরিচয় জানাতে চাননি।

পরিবেশ সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা ওবায়দুল হক বলেন, পাখি শিকার বন্ধে কঠোর আইনের প্রয়োগ জরুরি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।

এদিকে ধর্মপাশা উপজেলায় শিকারিদের পাতা ফাঁদ থেকে দুই শতাধিক দেশীয় প্রজাতির পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভূমি সহকারী সঞ্জয় ঘোষ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাদরা বিলে পরিচালিত অভিযানে বাবুই–শালিকসহ বিভিন্ন পাখি উদ্ধার করা হয়। শিকারিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, পাখি শিকারের বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

হাওর, শীতকাল, জীববৈচিত্র, সুনামগঞ্জ, পরিযায়ী পাখি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ