তিন শর্ত পূরণ করলে হবে শাকসু নির্বাচন
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১:৩১ অপরাহ্ন
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার জামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরে একই প্রতিষ্ঠানে টানা ৫০ বছর শিক্ষকতা করার বিরল সম্মান অর্জন করেছেন দুই প্রবীণ আলেম। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এই দুই গুণী শিক্ষকের সম্মানে আয়োজন করা হয় ‘পথিকৃৎ শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠান। সেখানে তাঁদের নগদ অর্থসহ নানা উপহার দিয়ে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।
সম্মাননা পাওয়া শিক্ষক দুজন হলেন, মাওলানা মনির উদ্দিন দত্তপুরী ও হাফেজ শামসুল ইসলাম রতনপুরী। ছাত্রজীবন শেষে ধারাবাহিকভাবে পাঁচ দশক ধরে একই প্রতিষ্ঠানে ইলম শেখানো ও সেবায় যুক্ত থাকার ঘটনা দেশে-বিদেশে বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে জামিয়ার প্রবীণ ফাজেল, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্র এবং এলাকার গুণীজনরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওলাদে রাসুল আল্লামা আজহার মাদানি এবং খলিফায়ে গহরপুরী আল্লামা শফিকুল হক সুরইঘাটি। এসময় তাঁরা বলেন, ‘এই দুই কীর্তিমান ব্যক্তি আমাদের ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি। পাঁচ দশক ধরে একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা—এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।’
অনুষ্ঠানে দুই শিক্ষকের জীবনের ওপর নির্মিত বিশেষ ভিজ্যুয়াল স্মারক ‘পথিকৃৎ শিক্ষক সম্মাননা : পাঁচ দশকের স্মারক’ প্রদর্শন করা হয়। এতে তাঁদের শৈশব, শিক্ষাজীবন, শিক্ষকতা ও বার্ধক্যের স্মৃতিচারণ উঠে আসে।
জামিয়ার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন আহমদ গহরপুরী বলেন, ‘আমি তাঁদের ছাত্র। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পরও তাঁরা আমাকে কখনো ছোট করে কথা বলেননি। ছুটির প্রয়োজন হলে আমার কাছেই অনুমতি চাইতেন যা আমার জন্য বিব্রতকর হতো। পরে আমি বলেছিলাম, ছুটির বিষয়ে আপনাদের পূর্ণ এখতিয়ার আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামিয়ার বয়স প্রায় ৬৯ বছর। বহু মানুষ এখানে সুনাম-সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে টানা পঞ্চাশ বছর এখানে সেবা করে যাওয়ার সৌভাগ্য সবার হয় না।’
জামিয়ার পক্ষ থেকে দুই শিক্ষকের জন্য কুরআন শরিফ, পোশাক, আসবাব, সুন্নাহ উপহার, বিশেষ আর্থিক হাদিয়া এবং ওমরাহ সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়। এসব হাদিয়া তাঁদের হাতে তুলে দেন খলিফায়ে গহরপুরী আল্লামা শফিকুল হক সুরইঘাটি।
দোয়ার মাধ্যমে সম্মাননা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আল্লামা আজহার মাদানি।
সিলেট, বালাগঞ্জ, সম্মাননা