০২ মে ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

সিলেটে যানজট নিরসনে কাজ করছে না এসএমপি’র নির্দেশনা

যত্রতত্র পার্কিং স্ট্যান্ড, নিয়ম মানছেন না চালকরা। অধিকাংশ স্ট্যান্ডেই নির্ধারিত সংখ্যার দ্বিগুণ গাড়ি।

মিফতা হাসান

প্রকাশঃ ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ৯:০৪ অপরাহ্ন


সিলেট নগরীতে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে নির্ধারিত ৩০টি স্ট্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সিএনজি চালিত অটোরিকশা পার্কিংয়ের অনুমোদন দিয়েছিল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। তবে সেই নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশা পার্কিং করে যাত্রী পরিবহন করছেন চালকরা।

এতে করে নগরীর শৃঙ্খলায় আগের চেয়ে তেমন কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে অনেকটাই আগের মতোই যানযাট লেগে রয়েছে সিলেট নগরীতে। 


গত ২২ সেপ্টেম্বর নগরীতে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড ছাড়া যত্রতত্র অটোরিকশা থামানো ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধে নির্দেশনা জারি করে এসএমপি। নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, অনুমোদিত স্ট্যান্ডগুলোতে কোথাও ৫টি, কোথাও ১০টি এবং কোনো কোনো স্ট্যান্ডে সর্বোচ্চ ১৫টি অটোরিকশা পার্কিং করে রাখতে পারবেন চালকরা। 


কিন্তু প্রশাসনের এই নির্দেশনা অনেকটা অমান্য করেই যাত্রী ওঠানামা করছেন অটোরিকশাচালকরা। ফলে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না পুলিশ প্রশাসন।

তালিকানুযায়ী অনুমোদিত ৩০টি সিএনজি স্ট্যান্ড হলো, আম্বরখানা, টিলাগড়, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট, তেমুখী, টুকেরবাজার, ভার্থখলা ক্বীন ব্রিজ, বাবনা পয়েন্ট, কদমতলী মুক্তিযোদ্ধা পয়েন্ট, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, সামাদ চত্বর, শেখঘাট জিতুমিয়া পয়েন্ট, রিকাবিবাজার, শাহপরান মাজার গেট, মেজরটিলা ইসলামপুর বাজার, বালুচর এমসি কলেজ ছাত্রাবাস সংলগ্ন, উত্তর কুশিঘাট, ওসমানী মেডিকেল গেট, ধোপাদিঘির পাড় শিশু পার্ক সংলগ্ন, কাজিটুলা বাজার, জেলরোড পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহ পয়েন্ট, কদমতলী ওভারব্রিজ, ভার্থখলা, চণ্ডিপুল, শ্রীরামপুর, মেন্দিবাগ জালালাবাদ গ্যাস অফিস সংলগ্ন, সিসিক ২৮ নং ওয়ার্ডের মকন দোকান বাজার ও শিববাড়ী বাজার।

সরেজমিনে, নগরীর আম্বরখানা, চৌহাট্টা, টিলাগড়, মদীনা মার্কেট, বন্দরবাজার কোর্টপয়েন্টসহ নগরীর অধিকাংশ স্ট্যান্ডেই দেখা গেছে নির্ধারিত সংখ্যার দ্বিগুণ পর্যন্ত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোথাও ১৫ থেকে ২০টির বেশি যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছেন চালকরা। 

এদিকে কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করেও চালকদেরকে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসতে পারেনি এসএমপি। ফলে যানজট পরিস্থিতির এখনও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি বললেই চলে। 

পথচারী ও নগরবাসীর অভিযোগ, অটোরিকশাচালকরা নিয়ম না মানায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে দিনের বেশির ভাগ সময় যানজট লেগে থাকছে। এতে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। 

আম্বরখানা এলাকার বসবাসরত চাকুরীজীবী হেলাল উদ্দিন জানান, আম্বরখানা পয়েন্টের চারিদিকে শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশার আনাগুণা পার্কিং। রাস্তাও ছোট, ফলে সবসময় যানজট লেগে থাকে। তাছাড়া গাড়ির হর্ণের শব্দতো আছেই। মাঝেমাঝে অভিযান চলাকালে চালকরা গাড়ি নিয়ে সরে যান। কিন্তু পুলিশ চলে গেলে পুনরায় আগের জায়গায় ফিরে আসেন চালকরা। এতে যানজট আর কমছে না বলেও জানান তিনি। 

পথচারী আসাদুজ্জামান বলেন, যত্রতত্র পার্কিংয়ের ফলে চলাচলে অসুবিধায় পড়তে হয়। শুনেছি, প্রশাসন শহরের যানজট নিরসনের জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের একটি তালিকা করে দিয়েছিল। কিন্তু চালকরা তা না মানাতে যানজট কমছে না।

তিনি জানান, শহরের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের আরো সতর্ক হওয়া উচিত। একইসঙ্গে চালকদেরও নিয়ম মানার আহ্বান জানান তিনি।  

সিলেট জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘অধিকাংশ স্ট্যান্ডে ৫-১০টা অটোরিকশা পার্কিং করে রাখার অনুমোদন দিয়েছেন প্রশাসন। কিন্তু অনেক স্ট্যান্ডে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় এটি যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।’

সিলেট ভয়েসকে তিনি বলেন, কিছু স্ট্যান্ডে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে গাড়ি পার্কিং করা হয়। এজন্য মনে হয় গাড়ির সংখ্যা বেশি। তাই কিছুটা যানজট তৈরি হয়। নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে প্রশাসনের নিয়ম মেনেই গাড়ি পার্কিং করা হয়।’  

এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলমান আছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ পার্কিং করা গাড়ি আটক করা হচ্ছে, মামলা দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে আমরা শক্ত অবস্থানে আছি।’

তিনি বলেন, ‘আগে অনেক স্থানে ২-৩ লাইনে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হতো কিন্তু এখন গাড়ির লাইন মোটামুটি ঠিক আছে। রাস্তায় যাতে যানজট না থাকে ও চলাচলের সুবিধার জন্য পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত ব্রিফ দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’ 

উপকমিশনার আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।’ সেজন্য ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পথচারী, গাড়িচালক ও নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, যানজট, এসএমপি, পুলিশ, নগর

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ