সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী
চামড়া শিল্পকে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে পরিণত করার উদ্যোগ সরকারের
রাজনীতি
প্রকাশঃ ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৩১ অপরাহ্ন
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
১৪টি আসনের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনের চারজন উপদেষ্টাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনজন প্রবাসী রাজনীতিবিদও প্রার্থীতা পেয়েছেন। অন্যদিকে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও স্থানীয়ভাবে সক্রিয় নেতা বাদ পড়েন।
সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। দুটি আসন, সিলেট-৪ ও সিলেট-৫, এখনো শূন্য রাখা হয়েছে।
সিলেট-১: এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েও মনোনয়ন পাননি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এই আসনে দলের প্রার্থীতা পেয়েছেন চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর।
সিলেট-২: নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসীনা রুশদীর লুনা লড়বেন এই আসনে। তবে দলের নবনিযুক্ত যুগ্ম মহাসচিব ও তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আলোচনায় থাকলেও মনোনয়ন পাননি।
সিলেট-৩: এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার এমএ সালাম ও সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামাল।
সিলেট-৪ ও সিলেট-৫: এই দুই আসনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় একাধিক নেতা প্রত্যাশী থাকলেও কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি।
সিলেট-৬: এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য ও শিল্পপতি ফয়সল আহমদ চৌধুরী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন।
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। বাকি দুটি আসন সুনামগঞ্জ-২ ও সুনামগঞ্জ-৪ শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের সুনামগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক। এ আসনে আলোচনায় ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসভাপতি এমএ সাত্তার, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা এমএ কাহার ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। এ আসনে আলোচনায় ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী।
সুনামগঞ্জ-২ ও সুনামগঞ্জ-৪ আসন এখনো পর্যন্ত কোন প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। আলোচনা রয়েছে এই দুই আসনেই বিএনপির শক্তিশালী শরিক দলের প্রার্থী রয়েছেন, তাই আসনদুটি ছেড়ে দেয়া হতে পারে।
মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি।
মৌলভীবাজার-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন শিল্পপতি নাসির উদ্দিন মিঠু। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু এবং বিএনপির প্রয়াত ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার জহরত আবিদ চৌধুরী।
মৌলভীবাজার-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শওকতুল ইসলামের নাম। এ আসনে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলভীবাজার-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বিএনপির প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসের রহমান। এ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।
হবিগঞ্জ জেলার একটি আসন বাদ রেখে ৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি।
হবিগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আলী মুকিব আব্দুল্লাহ।
হবিগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হক সেলিম ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আহমুদুর রহমান আবদাল।
হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি ও শিল্পপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল। এ আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনজীবী পরিষদ নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আমিনুল ইসলাম আলোচনায় ছিলেন।
ঘোষিত তালিকায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি প্রবাসে সক্রিয় নেতাদের প্রাধান্য দিয়েছে বিএনপি। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় অনেক পরিচিত মুখ মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও সিলেট বিভাগের ৫টি আসন (সিলেট-৪, সিলেট-৫, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, এবং হবিগঞ্জ-১) এখনো শূন্য রাখা হয়েছে, যা শরিক দলের জন্য ছাড় নাকি কৌশলগত অপেক্ষা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সিলেট, বিএনপি, মনোনয়ন, প্রার্থী,