২০ এপ্রিল ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

কুলাউড়ায় মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধি, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৬:৪৯ অপরাহ্ন


মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের হাজী সিরাজ উদ্দিন আহমদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত না থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে জড়িত ছিলেন। তার অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

 

গত ১৬ জুলাই মাদরাসা পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সুপারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—ইচ্ছামতো মাদরাসায় আসা, সরকারি অনুদান আত্মসাৎ, মাদরাসার জমি ও অন্যান্য উৎস থেকে আসা টাকার হিসাব না দেওয়া, ইচ্ছামতো খরচ, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, পাঠদানে গাফিলতি এবং নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেওয়া। এছাড়া দাখিল পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থতা এবং ইবতেদায়ী শাখায় কাউকে না জানিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগও ওঠে।

 

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমেরিকা প্রবাসী আতিকুল হক শাহিন ও আমিনুল হক আজাদ জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু সুপারের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এগুতে পারছে না। মাদরাসা সুপার পৌরসভায় ও জয়চন্ডী ইউনিয়নে টিসিবির চাল কেলেঙ্কারীতে ধরা পড়েন। চাল পরিমাপে কম দেয়ায় মানুষ তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এখন তিনি প্রতিষ্ঠানকে অচল করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পায়তারা করছেন। শিক্ষকদের মাঝেও গ্রুপিং সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। আমরা উনাকে আর প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে দেখতে চাই না।

 

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক জানান, মাদরাসার সুপার মো: রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শুনে গত ১৬ জুলাই সবাইকে নিয়ে জরুরি সভা করা হয়। এতে মাদরাসার অর্থ আত্মসাতসহ নানা অভিযোগ প্রমাণিতও হয়। তিনি মুচলেখা দিয়েছিলেন পরবর্তীতে আর এমন হবে না। কিন্তু এর ২ সপ্তাহ পরেই (৩০ জুলাই) কুলাউড়া পৌরসভায় টিসিবির পণ্য বিক্রয়কালে ওজনে কম দেওয়ায় মানুষের রোষানলে পড়েন। অথচ আমাদেরকে না জানিয়ে  মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে তিনি সেখানে গিয়েছেন। বিষয়টি মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতাপক্ষ এবং এলাকার লোকজন বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখে ক্ষুব্ধ হন। অন্যায় কাজের ফলে মাদরাসা এবং এলাকার মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতাপক্ষ এখন আর উনাকে রাখতে চাচ্ছে না, এখানে আমার কিছু করার নেই।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ২৬ বছর ধরে এই মাদরাসায় দায়িত্ব পালন করছি। তারা মাদরাসাকে দাখিল পর্যন্ত উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। আমি ইবতেদায়ী প্রধান হিসেবে থাকতে চেয়েছিলাম, আর সুপার হিসেবে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। এখন তারা আমাকে রাখতে চাইছে না। আমার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।’ 

 

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন জানান, অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

কুলাউড়া, মাদরাসা সুপার, অনিয়ম-দুর্নীতি,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ