২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক
অনিয়ম-দুর্নীতি
ব্যাংকের সাত কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ
প্রকাশঃ ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৭:২১ অপরাহ্ন
ব্যাংক মানেই বিশ্বস্ততা ও নির্ভরতা। মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি ব্যাংক। একজন গ্রাহক ব্যাংকে তার সঞ্চিত অর্থ জমা রাখেন এই বিশ্বাসে যে অর্থ নিরাপদ থাকবে এবং প্রয়োজনের সময় সহজে পাওয়া যাবে। এ বিশ্বাসই ব্যাংকের বিশ্বস্ততার মূলভিত্তি।
কিন্তু একটি ব্যাংকের ‘ভালো গ্রাহক’ হওয়াটাও যে কারো জীবনে বিপদ ডেকে আনবে, তা হয়তো জানতেন না সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ী এমদাদুল হক। সিলেটে ইস্টার্ন ব্যাংক চৌহাট্টা শাখা থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিশোধ করে হয়েছিলেন ব্যাংকের ‘ভালো গ্রাহক’। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ব্যাংকের অন্য একজন গ্রাহকের ১ কোটি ২০ লাখ টাকার খেলাপী ঋণে ‘গায়েবি গ্যারান্টর’ বানিয়ে ফাঁসানো হয়েছে তাকে। ব্যাংকের দায়ের করা একটি অর্থঋণ মোকদ্দমার বিবাদীও হতে হয়েছে তাকে।
‘গায়েবি গ্যারান্টর’ বানিয়ে ফাঁসানো অভিযোগ ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি সিলেটের চৌহাট্টা শাখার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী এমদাদুল হক সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাছননগর এলাকায় বসবাস করছেন। মেসার্স এমদাদ ট্রেডিং নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের বরাবরে ব্যাংকের সাত কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তাছাড়া গত বৃহস্পতিবার (০৪ আগস্ট) সিলেটের অর্থঋণ আদালতে ইস্টার্ন ব্যাংকের দায়ের করা মোকদ্দমার জবাবও দাখিল করেছেন বিবাদী এমদাদুল হক।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, ইস্টার্ন ব্যাংকের চৌহাট্টা শাখার রিটেইল ও এসএমই ব্যাংকিংয়ের সাবেক অ্যাসোসিয়েট রিলেশনশীপ ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম, ব্যাংকের চৌহাট্টা শাখার এসএভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক দিপংকর দাশ পলাশ, লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র অফিসার বিপ্রেশ দাস, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দেউলগ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে ও পালস কমিউনিকেশনের প্রোপাইটার মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রী মোছাম্মৎ জাহানার বেগম।
এছাড়াও আরও ৫জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শ্রীধরা এলাকার মো. মুহিবুর রহমানের ছেলে ও ইভা এন্ড ইকরা মটরসের প্রোপাইটর মো. দেলওয়ার হোসেন, ইস্টার্ন ব্যাংক চৌহাট্টা শাখার ব্রাঞ্চ সেলস ও সার্ভিস ম্যানেজার মো. আব্দুল কুদ্দুস ভূঁইয়া, ব্যাংকের ক্রেডিট এডমিন্সট্রেশন বিভাগের এসপিও অ্যান্ড ম্যৗানেজার গোলাম মুজতবা খান লুসেন্ট, সাবেক ব্রাঞ্চ ও এরিয়া হেড (সিলেট ও নারায়ানগঞ্জ) শরফুদ্দিন মোজাফ্ফর আলী ও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সিআরএম আব্দুল মতিন।
এছাড়াও তারও আগে গত ৭ এপ্রিল জালিয়াতির ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ ও এমদাদুল হকের ঋণ সংক্রান্ত সকল নথি সেইফ কাস্টডি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট অফিসের নির্বাহী পরিচালক বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন এমদাদুল।
অর্থঋণ মোকদ্দমার নথি, দুদকে দেওয়া অভিযোগ ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মো. এমদাদুল হক ২০২২ সালে অনলাইনে ইস্টার্ন ব্যাংকের ফেসবুক পেজ-এ সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণের বিজ্ঞাপন দেখে নিজ থেকে আগ্রহী হয়ে যোগাযোগ করেন ইস্টার্ণ ব্যাংক চৌহাট্টা শাখায়। সুনামগঞ্জের ব্যাংকের কোনো শাখা না থাকায় সিলেটে আসেন তিনি। সকল প্রক্রিয়া শেষে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর এমদাদুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এমদাদ ট্রেডিং’ এর নামে ‘ইবিএল বিজনেস এক্সেলারেটর’ স্কিমের অধীনে ৩০ কিস্তিতে পরিশোধ সাপেক্ষে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়।
ঋণ দেওয়ার সময় তাঁর কাছ থেকে ঋণসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষরগ্রহণ ছাড়াও বাধ্যতামূলকভাবে মেসার্স এমদাদ ট্রেডিং নামীয় সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত এবং তারিখ ও অলিখিত ২০টি প্যাডের পাতা নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও তার নামীয় স্বাক্ষরিত অন্যান্য কলাম অপূর্ণ ৪টি ব্যাংক চেক নেয় ব্যাংক। এসময় সকল কাগজাদির একটি অনুলিপি চাইলে তাকে দেয়া হয়নি।
দুদকে দাখিল করা অভিযোগ ও মোকদ্দমার জবাবে উল্লেখ করা হয়, এমদাদুল হক ঋণ গ্রহণের পর থেকে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে থাকেন এবং ঋণের মেয়াদপূর্তির ৮ মাস আগেই গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর এককালীন ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮১ টাকা পরিশোধ করে ঋণমুক্ত হন তিনি। ঋণ ক্লোজিংয়ের (সমাপ্তির) দিনে পূর্বে জমা রাখা চেক বই, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্যাডসহ সকল কাগজপত্র ফেরত নিতে চাইলে এগুলো ব্যাংকিং আইনে ফেরত দেওয়া যায় না জানিয়ে একটি লোন ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের ২১ নভেম্বর ইস্টার্ন ব্যাংক চৌহাট্টা শাখা থেকে ম্যানেজার পরিচয়ে তাকে বলা হয় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির ১ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি ঋণের গ্যারান্টর তিনি (এমদাদুল হক)। এই গ্রাহক ঋণ খেলাপি হয়েছেন, এজন্য গ্যারান্টর হিসেবে তাকেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করলে কোন আইনে কী শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এসব বলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ব্যাংকের আচমকা এমন কাণ্ডে রীতিমতো অবাক হন এমদাদুল। এ ঘটনায় চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঋণ সংক্রান্ত সকল নথি সেইফ কাস্টডি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট অফিসের নির্বাহী পরিচালক বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন।
পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এর আগে গত বছরের ২৬ নভেম্বর ইস্টার্ন ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার বিপ্রেশ দাস বাদি হয়ে অর্থঋণ আদালতে তাকে ৩ নম্বর বিবাদী করে একটি মোকদ্দমা দায়ের করেছেন।
ইস্টার্ণ ব্যাংকের দায়ের করা অর্থঋণ মোকদ্দমা নথিতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ব্যাংকের টার্ম লোনের উৎকর্ষের আওতায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণগ্রহণের জন্য আবেদন করেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের ‘পালস কমিউনিকেশন’ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। মামলার নথিতে ঋণের প্রথম গ্যারান্টর মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন নিজে, ২য় গ্যারান্টর হন ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোছাম্মৎ জাহানারা খানম এবং ৩য় গ্যারান্টর হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. এমদাদুল হকের নামে একটি লেটার অব গ্যারান্টর সংযুক্ত রয়েছে।
নথিতে আরও দেখা গেছে, ফরহাদ হোসেনের ঋণের ২য় গ্যারান্টর জাহানার খানমের স্বাক্ষর ও ৩য় গ্যারান্টর এমদাদুল হকের স্বাক্ষর সত্যয়নকারী ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষর ভিন্ন। তাছাড়াও বুকলেটে হাতে লেখা ফরহাদ হোসেন ও জাহানারা খানমের নাম ঠিকানা ও একশত টাকা করে তিনটি স্ট্যাম্প বসানোর নমুনার সঙ্গে এমদাদুল ইসলামের লেখা তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় জালিয়াতি ধরা পড়ে লেটার অব গ্যারান্টরের বুকলেটের পাতার সিরিয়ালে। বুকলেটে ফরহাদ হোসেনের পাতার সিরিয়াল ৩৯ ও স্ত্রী জাহানারা খানমের পাতার সিরিয়াল ৪১। সেখানে এমদাদুলের কথিত লেটার অব গ্যারান্টরের সিরিয়াল ৩৯। তাও আবার জাহানারা খানমের পাতার উল্টোপাশে পিন দিয়ে আটকানো।
তাছাড়াও এমদাদুলের লেটার অব গ্যারান্টরের সত্যয়নকারী ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষরের সঙ্গে ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রীর জাহানারা খানমের সত্যয়নকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষরের মিল নেই। এছাড়াও এমদাদুলের লেটার অব গ্যারান্টরে তার স্বাক্ষর সত্যয়ন করেননি ফরহাদ হোসেন। যেমনটা তার স্ত্রীর লেটার অব গ্যারান্টরে করেছিলেন।
তাছাড়া লেটার অব গ্যারান্টিতে ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রীর ছবি নেই কিন্তু এমদাদুলের লেটার অব গ্যারান্টিতে তার একটি ছবি যুক্ত রয়েছে। যেটি তিনি আগে ব্যাংকে জমা দিয়ে ঋণ নিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী এমদাদুল হক বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টার্গেট করেই তাকে সিলেটের এক ব্যবসায়ীর ১ কোটি ২০ লাখ টাকার খেলাপি ঋণে ফাঁসিয়েছে। এজন্য তাঁর ব্যক্তিগত ঋণের ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দিলেও ঋণগ্রহণের সময় জমা দেওয়া চেক বইয়ের পাতাসহ কোনো কাগজপত্র অসৎ উদ্দেশ্যের জন্য ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এমদাদুল হক তার আইনজীবির মাধ্যমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। গত ৫ মে নোটিশের জবাবে ফরহাদ হোসেনের ঋণের গ্যারান্টর পরিবের্তনের বিষয়টি স্বীকার করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে এমদাদুল হক সবকিছু জানেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু গ্যারান্টর পরিবর্তন করার বিষয়টি অবগত নয় বলে জানিয়েছেন এমদাদুল হক।
লিগ্যাল নোটিশের জবাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী জাহানারা খানম ও কথা মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী মো. দেলওয়ার হোসেন লেটার অব গ্যারান্টি সম্পাদন করে ফরহাদ হোসেনের ঋণ প্রাপ্তিতে সহযোগীতা করেন। কিন্তু দেলওয়ার হোসেন ব্যক্তিগত ও ব্যবসাযীক কারণে গ্যারান্টর হইতে মুক্ত হওয়ার আবশ্যকতা দেখা দিলে ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ফরহাদ হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে দেলওয়ার হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে এমদাদুল হককে গ্যারান্টর করা হয়। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা ও ব্যাংকিং নীতিমালা অনূসরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু ২০২২ সালে গ্যারান্টর পরিবর্তন হলেও এমদাদুল হকের লেটার গ্যারান্টিতে ২৭-১২-২০১৮ লেখা রয়েছে। এটিকে ব্যাংক কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে লিখেছেন বলে লিগ্যাল নোটিশের জবাবে বলা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এমদাদুল হক বলেন, ‘ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েই গায়েবি গ্যারান্টর বানিয়ে আমাকে খেলাপি ঋণে ফাঁসানো হয়েছে। এটা সর্ম্পূর্ণ পরিকিল্পিত একটি ঘটনা। তাছাড়া আদালতে অর্থঋণ মোকাদ্দমা দাখিল করা নথি ও বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করা নথিতেও ব্যাপক গড়মিল রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার ব্যক্তিগত ঋণগ্রহণের দু’য়েকবার ব্যাংকে গিয়েছি। এখন তারা বলছে আমি গ্যারান্টর হওয়ার জন্য ব্যাংকে গেছি। লেটার অব গ্যারান্টর সম্পূর্ণ আমার অগোচরে জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুদকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দুদক বিষয়টি আমলে নিয়েছে।
এ বিষয়ে ইস্টার্ণ ব্যাংকের চৌহাট্টা শাখার রিটেইল ও এসএমই ব্যাংকিংয়ের সাবেক অ্যাসোসিয়েট রিলেশনশীপ ম্যানেজার (বর্তমানে উপশহর শাখায় কর্মরত) মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত গিয়ে আমরা কথা বলেছি। একই জিনিস নিয়ে গত এক বছর ধরে আর কত কথা বলবো। উনি এখন যে পর্যায়ে গেছেন, এখন আর আলোচনা করে লাভ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে উনার সামনেই স্টেটম্যান্ট দিছি। সবকিছুই তো দিয়ে দিছি। এখন আর কী বলার আছে। উনি যে ফ্রড কথা বলছে সবগুলো আমাদের কাছে ডকুমেন্টারি আছে। উনার হোয়াটসঅ্যাপে কি আছে সবকিছু প্রমাণ আছে। সিসিটিভি ফুটেজ আছে। এতোকিছু বলার পরেও তিনি আইনি পর্যায়ে গেছেন।’
লেটার অব গ্যারান্টরে স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন নথিতে জাল-জালিয়াতি বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন কিছু সাবমিট তখন আমাদের হাতে আর কিছু থাকে না। মামলার ডিপার্টমেন্ট সম্পূর্ন আলাদা। মামলা আমি করি নি। তারাই সবকিছু করেছে। এরপরেও কিছু জানতে চাইলে ব্যাংকে আসেন।’
জানতে চাইলে ব্যাংকের চৌহাট্টা শাখার এসএভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক দিপংকর দাশ পলাশ মুঠোফোনে বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকের অনেক মামলা চলে। এভাবে হুট করে বললে রি কল করাটা সমস্যা। তাছাড়া যার নাম বলছেন, এই নামে আরও ৮-১০ ব্যক্তি আছেন। আমি কার কথা বলবো আসলে বুঝতে পারছি না।’
সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবি আশফাকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এমন ঘটনা ব্যাংকিং সেক্টরে জবাবদিহিতার ঘাটতির জানান দেয়। জাল-জালিয়াতি করে গ্যারান্টর বানানোর এমন কান্ড ব্যাংকের যেকোন গ্রাহকের জন্যই দুশ্চিন্তার বটে! নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানসমূহকে এমন ঘটনা রোধে আরো তৎপর হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি যেহেতু নিজে বাদি হয়ে দুদকে অভিযোগ দিয়েছেন, সেহেতু দুদকের উচিত এই মামলার তথ্য উদঘাটন করা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে এই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে ব্যাংকের মতো স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।
ব্যাংক, ঋণ খেলাপি, সিলেট, ইস্টার্ণ ব্যাংক