২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / পরিবেশ

ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর

প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থাপনার তাগিদ ভূতাত্ত্বিক সমিতির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ৩:৩৮ অপরাহ্ন


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এ সম্পদ অনিয়ন্ত্রিত আহরণের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতি।

সাদা পাথর লুটের প্রেক্ষিতে সোমবার গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রেরণ করেন সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আনোয়ার জাহিদ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতের শিলং মালভূমি থেকে উৎপন্ন শিলাখণ্ড ধলাই নদী হয়ে সিলেট অঞ্চলে এসে জমা হয়ে বিশাল প্লেসার বা অ্যালুভিয়াল ভান্ডার গঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানভিত্তিক মূল্যায়ন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাত্রাতিরিক্ত পাথর উত্তোলনের ফলে প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে।

ফলে নদী ভাঙন ও নদী প্রবাহপথের পরিবর্তন ঘটছে, বন্যা ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে, নদীর জল জীববৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও ড্রেজার ও বোমা মেশিনের ব্যবহারে নদী তলদেশের প্রাকৃতিক গঠন বিনষ্ট হচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে নদীর স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি বছর নতুনভাবে সঞ্চিত পাথরের বৈজ্ঞানিক জরিপ ও মজুত বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্ধারণ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, সংবেদনশীলতা ও জীববৈচিত্র বিবেচনায় বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে সীমারেখা নির্ধারণ করে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করা।


বিজ্ঞপ্তিতে আরো সুপারিশ করা হয়, বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত উত্তোলন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ বিনষ্টকারী যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।


ভূতাত্ত্বিক সমিতি আরো সুপারিশ করেছে নদীর প্রবাহপথ, ভাঙন ও জলজ পরিবেশ এবং জীববৈচিত্রের উপর পাথর উত্তোলনের প্রভাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উত্তোলন নীতি সংশোধন করতে হবে। পাউবোর মাধ্যমে রিয়েল টাইম মনিটরিং চালু করতে হবে।

এছাড়াও পাথরের প্রাকৃতিক প্রবাহ অব্যাহত রেখে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে নদী অববাহিকায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা চালু করা যেতে পারে বলেও সুপারিশ করা হয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

সাদা পাথর, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতি, ব্যবস্থাপনা, লুটপাট

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ