২০ এপ্রিল ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

শিক্ষকদের ‘পা টেনে ছিঁড়ে ফেলার’ অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২২ আগস্ট, ২০২৫ ২:০৪ অপরাহ্ন


‘আমি সুনামগঞ্জে বিয়ে করেছি, সুনামগঞ্জের জামাই হিসেবে আপনাদের কী লাগি সেটা আর বললাম না। আমার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই, আমি যা বলি তাই হবে’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় এমন ভাষায় প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১১ আগস্ট, তাহিরপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে। একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, হাওর ভাতা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্য করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন সভায় উপস্থিত প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশে হুমকিসূচক বক্তব্য দেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (২০ আগস্ট) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ই–মেইলে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সভায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অশালীন, অশোভন ও হুমকিসূচক ভাষা ব্যবহার করেছেন। এতে উপস্থিত প্রধান শিক্ষকরা অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হন।

অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস তদন্তের জন্য সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুব জামানকে নির্দেশ দেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এমন কথাবার্তা কারোরই বলা উচিত নয়। ফেসবুকে লেখালেখির বিষয়েও শিক্ষকদের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি বিধিমালা মেনে চলতে হয়।”

অভিযোগ অস্বীকার করে তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোলেমান মিয়া বলেন, আমি শিক্ষকদের ভালোবাসি। অভিযোগগুলো ডাহা মিথ্যা। একটি মধ্যস্থভোগী চক্র যারা অফিসকেন্দ্রিক আড্ডা দিত, তারাই বেনামে অভিযোগ করেছে। আমি সুনামগঞ্জের জামাই আমি শিক্ষকদের পা ছিঁড়ে ফেলার মতো কোনো কথা বলিনি। বরং বলেছি, শিক্ষকদের কেউ খারাপ ব্যবহার করলে সেটা সহ্য করব না।

হাওর ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোড নম্বর তৈরি না হওয়ায় এখনো প্রাথমিক শিক্ষকদের ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু শিক্ষকরা না বুঝে ফেসবুকে উনি উনি করে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এজন্য ৮ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁরা লিখিতভাবে ভবিষ্যতে এমন করবেন না বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, গত জুলাই মাসে তাহিরপুরের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাওর ভাতা পেলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাননি। এতে তাঁরা হতাশ হন। ভাতার দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্য করেন অনেকে। ওই মন্তব্যের জবাব দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেও। এর জের ধরে ১১ আগস্টের সভায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকদের হুমকি দেন।

পরে ১৩ আগস্ট ফেসবুকে লেখালেখির ঘটনায় তাহিরপুরের অন্তত ৮ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাঁরা ২০ আগস্ট বুধবার নোটিশের জবাব জমা দেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, আগামী সোমবার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহিরপুরে গিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করবেন।


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ, শিক্ষা কর্মকর্তা, অভিযোগ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ