সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী
চামড়া শিল্পকে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে পরিণত করার উদ্যোগ সরকারের
রাজনীতি
প্রকাশঃ ২০ আগস্ট, ২০২৫ ৬:৪৯ অপরাহ্ন
সিলেটের সাদা পাথর লুটের ঘটনায় দুদকের তালিকায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম জড়িয়ে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে সিলেট মহানগর বিএনপি।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে নগরীর একটি রেষ্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী (কয়েস লোদী) ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, সমকাল পত্রিকার ২০ আগস্ট সংখ্যার ৪র্থ পাতায় এবং অনলাইন ভার্সনে ‘দুদকের অনুসন্ধান: সিলেটে সাদা পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত ৪২ জন’ শিরোনামে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তাদের নাম যুক্ত করা হয়েছে।
রেজাউল হাসান লোদী বলেন, ‘এই সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা চ্যালেঞ্জ জানাই-এ সংবাদের প্রকাশকরা প্রমাণ দিক, অন্যথায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে সাদা পাথর লুট চলছে। অথচ প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
বিএনপি নেতারা দাবি করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে ঘায়েল করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান।
ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি ও ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে। এই গণজোয়ার ঠেকাতেই বিএনপিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।’
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।
এর আগে বুধবার দৈনিক সমকাল পত্রিকায় ‘দুদকের অনুসন্ধান: সিলেটে সাদা পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত ৪২ জন’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদে বলা হয়-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর লুটের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ৪২ জনকে চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা রয়েছেন। সাদাপাথর চুরির ঘটনায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলার তথ্যও পেয়েছে দুদক।
কমিশনের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান ও অনুসন্ধান চালিয়ে এদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে। দুদকের বরাত দিয়ে বুধবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, সদস্য হাজি কামাল (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া , কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে দুদু , সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রুবেল আহমেদ বাহার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুসতাকিন আহমদ ফরহাদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া ওরফে দুলা, যুগ্ম আহ্বায়ক রজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন, সাজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কর্মী জাকির হোসেন, সদস্য মোজাফর আলী, মানিক মিয়া, সিলেটি জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে শাহপরান, কোষাধ্যক্ষ (বহিষ্কৃত) শাহ আলম ওরফে স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম এবং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্স।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কর্মী বিলাল মিয়া, শাহাবুদ্দিন , গিয়াস উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল ওদুদ আলফু, কর্মী মনির মিয়া, হাবিল মিয়া ও সাইদুর রহমান।
সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ফখরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন।
সিলেট জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন ও মহানগর প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
অনুসন্ধানে সাদাপাথর চুরির সঙ্গে আরও যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তারা হলেন– কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের আনর আলী, উসমান খাঁ, ইকবাল হোসেন আরিফ, দেলোয়ার হোসেন জীবন, আরজান মিয়া, মো. জাকির, আলী আকবর, আলী আব্বাস, মো. জুয়েল, আলমগীর আলম ও মুকাররিম আহমেদ।