০২ মে ২০২৬

যাপিতজীবন

স্বামীহারা সাত সন্তানের জননীর পাশে ছাতকের ইউএনও

প্রতিনিধি, ছাতক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ২:১৪ অপরাহ্ন


স্বামীহারা সাত সন্তানের জননী আফিয়া বেগমের দুর্দশার খবর পেয়ে রাতেই ছুটে গেলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম। গতকাল রোববার রাতে তিনি উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের বড়কাপন মাঝপাড়া গ্রামে গিয়ে ওই পরিবারের হাতে তুলে দেন খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ ও ঘর মেরামতের জন্য টিন।

প্রশাসনের এই হঠাৎ উপস্থিতিতে হতবাক হয়ে যান আফিয়া বেগম। চোখের পানিতে ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা এক বেলা খেলে তিন বেলা উপোস থাকি। ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ে, দরজাও নেই। কাপড় দিয়ে কোনোমতে আব্রু রক্ষা করি। ইউএনও সাহেব না আসলে আজও না খেয়ে থাকতে হতো।’

আফিয়া বেগমের স্বামী লোকমান আলী ছিলেন দিনমজুর। সংসারের অভাব ঘোচাতে তিনি মালয়েশিয়ায় যান। কিন্তু সেখানে অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। ২০২৪ সালে তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীর কাছে ধারদেনা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। তাঁর মৃত্যুর পর আফিয়া বেগমের কাঁধে এসে পড়ে সাত সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়ির ভরণপোষণের দায়িত্ব। বাধ্য হয়ে তিনি সম্প্রতি দুই মেয়েকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠান।

রাতে ইউএনও তরিকুল ইসলাম আফিয়ার হাতে পাঁচ বস্তা খাদ্যসামগ্রী, দুই বান্ডেল টিন ও কিছু নগদ অর্থ তুলে দেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক, সদস্য আব্দুল কুদ্দুস সুমন, আলমগীর হোসেনসহ ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ‘ইউএনও মহোদয় শুধু একজন প্রশাসক নন, তিনি মানবিকতার প্রতীক। তাঁর এই উদ্যোগ সমাজের অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা।’

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটা আমার কাছে মানবিক কর্তব্য। একজন প্রশাসকের মৌলিক কাজ হলো অসহায় মানুষের পাশে থাকা।’


শেয়ার করুনঃ

যাপিতজীবন থেকে আরো পড়ুন

ছাতক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউএনও, সুনামগঞ্জ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ