০৩ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ আব্দুস সামাদ আজাদের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ ৩:৪১ অপরাহ্ন


প্রয়াত জাতীয় নেতা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুস সামাদ আজাদের ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ। ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল, বাধ্যকজনিত কারণে, রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

 

রবিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জগন্নাথপুরে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আব্দুস সামাদ আজাদ স্মৃতি সংসদ। 

 

এদিকে বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নান। 

 

এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষাসৈনিক, এবং গণমানুষের নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ দেশের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে গেছেন। তিনি দেশ ও জাতির হৃদয়ে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন। তাঁর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে আমি ২০তম মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

 

এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সুএধর বিরেন্দ্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক আব্দুল জব্বার, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আফু মিয়া, আব্দুল জলিল, যুবলীগ নেতা আকমল হোসেন ভুইয়া, সেলিম আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা রনি মিয়া প্রমুখ।

 

আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের নলুয়ার হাওর বেষ্টিত ভুরাখালি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪০ সালে সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি সুনামগঞ্জ মহকুমা মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৩ সালে সুনামগঞ্জ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক এবং ১৯৪৮ সালে সিলেট মুরারি চাঁদ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ইতিহাস বিষয়ে এমএ পাস করেন।


 ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তার এমএ ডিগ্রি কেড়ে নেওয়া হয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং কারাবরণ করেন। ১৯৫৩ সালে পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনীত হন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৭০ সালে গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ভ্রাম্যমাণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।


তিনি স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি সুনামগঞ্জ-২ ও ৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আব্দুস সামাদ আজাদ একজন সফল কূটনীতিক, তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান, এবং সরকারের পররাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালনের পাশাপাশি বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সাল থেকে টানা তিনবার সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

আব্দুস সামাদ আজাদ, মৃত্যুবার্ষিকী, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, জাতীয় নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ