২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / পরিবেশ

জাফলংয়ে বালু ও পাথরখেকোদের তাণ্ডব চলছেই, ধ্বংসের মুখে চা বাগান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ৭:৩৪ অপরাহ্ন


বালু ও পাথরখেকোদের থাবায় প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ের আগের দৃশ্যপট এখন আর নেই বললেই চলে। জাফলং জিরো পয়েন্টের পর এবার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বালিঘাট মন্দিরের জুম নামক স্থান থেকে দিনরাত যন্ত্র দানব ফেলুডার মেশিন দিয়ে দেদারসে বালু-পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে না কোন পদক্ষেপ। জুমপাড় কেটে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভারত থেকে ঢল নামলে শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীনসহ বেশ কিছু পরিবার নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, যন্ত্র দানব মেশিন দিয়ে বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে হুমকির মূখে রয়েছে স্থানীয় শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দিরসহ অসংখ্য ফসলী জমি, পানের বরজ ও সুপারী বাগান, ছাড়াও জাফলং চা-বাগান এবং বসতবাড়ি। গত বছরের ৫ আগষ্টে ছাত্র-জনতার আন্দলনে পট পরিবর্তনের পরদিন থেকেই উত্তর সিলেটের বৃহৎ জাফলংয়ের পাথর কোয়ারী এবং বিছানাকান্দি পাথর কোয়ারী ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক লুটপাটের মহাযজ্ঞ চলে।

 

শুধু জাফলং পাথর কোয়ারী থেকে প্রায় শত কোটি টাকার পাথর লুট হয়। পাথর লুট-পাটে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো.বদরুল হুদা বাদী হয়ে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন।

 

কিন্তু মামলার দায়েরের কয়েক মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে পাথর লুটপাটকারী মামলার আসামীরা এখনো রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

এদিকে, জাফলংয়ের বল্লাপুঞ্জি, মন্দিরের জুম, জিরো পয়েন্ট, বাবুল‘র জুম এলাকা, বল্লাপুঞ্জি সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর জাফলং সেতু সংলগ্ন পাথর কোয়ারী এলাকায় অবৈধভাবে দানবযন্ত্র দিয়ে রাতের আঁধারে বালু-পাথর উত্তোলনের করা হচ্ছে।

 

চোরাইভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে জুমপাড় এলাকায় শ্রী শ্রী বালিবাড়ি মন্দির, বল্লাঘাটের পুরাতন পর্যটন স্পট, বল্লাপুঞ্জি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেলার মাঠ, শত হেক্টর ফসলী জমি, চা বাগান, জাফলং সেতু, জাফলং বাজার, নয়াবস্তী, কান্দুবস্তী গ্রামের বসতবাড়ী ও খাসিয়া সম্পাদায়ের, পান সুপারীর বাগানসহ আশ পাশের এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার আশস্কা রয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, বালু-পাথর খেকোদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের ভাগবাটোয়ারা হওয়ার কারণে প্রশাসন নিরব থাকে। ফলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এক সাথে মিলেমিশে বিভিন্ন ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্র দানব দিয়ে মাটি কেটে বালু-পাথর উত্তোলনের কাজ অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের লোক দেখানো টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযান পরিচালনাকারী দল ঘটনাস্থল পৌছানোর আগেই আগাম খবর চলে যায় বালু-পাথরখেকোঁ চক্রের কাছে।


গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার মোহাম্মদ তোফায়েল আহমদ সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘জাফলং চা বাগান থেকে শুরু করে তার আশেপাশে এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমার অফিসাররা এখানে ৮ ঘন্টা করে দিনে-রাতে ডিউটি দিচ্ছেন। আপনি খোজ নিয়ে দেখতে পারেন এখন এখানে কোন নৌকা ডুকে কি না।’ 


এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানান।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

জাফলং, গোয়াইনঘাট, পরিবেশ,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ