
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে উড্ডয়ন করা এই বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটিতে মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানটি যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কিছু পরই এটি ‘মে-ডে’ সংকেত পাঠায় এবং এরপর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিমানটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের পাশের একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
আহত ও উদ্ধার তৎপরতা
বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ধোঁয়ায় ছেয়ে যাওয়া এলাকার ছবি এবং স্ট্রেচারে করে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়। ঘটনাস্থলে ব্যাপক আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
আরোহীদের পরিচয়
রয়টার্স জানিয়েছে, বিমানে ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ১১ জন শিশু এবং ১৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৪৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং ১ জন কানাডীয় নাগরিক ছিলেন।
বিমানের ধরন ও অবস্থান
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট Flightradar24 জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর VT-ANB। এটি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক যাত্রীবাহী বিমান। ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের কিছু সেকেন্ড পরই এর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তদন্ত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা তৎপর হয়েছে। আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট চলাচল আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দুর্ঘটনার খবরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ৬.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
পূর্ববর্তী দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
ভারতে সর্বশেষ মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা ঘটে ২০২০ সালে। সে সময় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি ফ্লাইট দক্ষিণ ভারতের কোঝিকোডে রানওয়ে অতিক্রম করে একটি উপত্যকায় পড়ে যায় এবং ২১ জন নিহত হন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে টাটা গ্রুপ ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া অধিগ্রহণ করে। ২০২৪ সালে এটি টাটার আরেকটি এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠান ভিস্তারার সঙ্গে একীভূত হয়।
এ দুর্ঘটনার পর টাটা গ্রুপ জানিয়েছে, একটি জরুরি সাপোর্ট সেন্টার চালু করা হয়েছে এবং যাত্রীদের পরিবারদের জন্য সহায়তা টিম প্রস্তুত রয়েছে।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
ভারত, আহমেদাবাদ, এয়ার ইন্ডিয়া, বিমান দুর্ঘটনা,


