
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। দিনে দিনে যেন মৃত্যুপুরীতে রূপ নিচ্ছে। একেকটা দুর্ঘটনা যেন, আরেকটকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আর দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। এতে যোগ হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু থেকে বৃদ্ধরাও। তবুও থামছে সড়কপথের আহাজারি। এর দায় নিচ্ছে না কেউ। দায়িত্বও নিচ্ছে না কেউ।
ওভারলোড, ওভারট্রেকিং ও চালকদের তীব্র প্রতিযোগীতায় একের পর এক প্রাণ যাচ্ছে এই মহাসড়কেই। বিশষে করে মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশ যেন মৃত্যুকূপ হয়ে দাড়িয়েছে। সবশেষ শনিবার তেলবাহী ট্রাক ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মা ও মেয়েসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে ১৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এতো এতো প্রাণহানির পরও টনক নড়ছে সংশ্লিষ্টদের। দায়সাড়া ভূমিকায় পার পেয়ে যাচ্ছে ঘাতকরা। এতে করে লাগাম টানা যাচ্ছে না কারও।
যার দৃষ্টান্ত গত ৭ আগস্ট দুই বাসের সংঘর্ষে ৯ জনের প্রাণ হারানোর ঘটনা। এ ঘটনায় গত ৮ আগস্ট জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ৫দিনের মধ্যে ঘটনার কারণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। গত ১৩ আগস্ট কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও শনিবার পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
প্রশাসনের এমন গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসছে না। এর ফাক-ফোকরে পার পেয়ে যাচ্ছে ঘাতক বাস চালকরা।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও গত ৭ আগস্ট দুই বাসের সংঘর্ষে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক পিংকি সাহা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো জমা দেয়া হয়নি। চলতি সপ্তাহেই প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
গত ৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ৯ জন নিহত হন। এরপর ১৪ আগস্ট একই মহাসড়কে বাসচাপায় পিষ্ট হয়ে আরও দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্য হয়। এ ঘটনার মাত্র ৮ দিনের মাথায় শনিবার মহাসড়কে একই উপজেলায় আরেকটি দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় তেলবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত চারজনের মধ্যে তিনজনই একই পরিবারের সদস্য।
নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামশী গ্রামের মৃত গফুর মিয়ার ছেলে মো. নিয়ামত (৪৫), তার স্ত্রী উসুফা বেগম, তার মেয়ে আয়শা আক্তার (৫) ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর মাঝেরবাড়ী গ্রামের মো. লালন মিয়া (২৬)।
এ ঘটনায় নিহত নিয়ামত ও উসুফা দম্পতির আরও এক ছেলে ও এক মেয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়।
নিহত মো. নিয়ামতের মামা আব্দুল আউয়াল বলেন, নিহত নিয়ামত ও উসুফা দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুরে বসবাস করছিলেন। তাদের মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। শনিবার কিশোরগঞ্জ থেকে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে জগন্নাথপুর যাচ্ছিলেন নিয়ামত। বাস থেকে অটোরিকশায় করে জগন্নাথপুর যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ওসমানীনগরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী পদ্মা কোম্পানির তেলবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা চারজনের মৃত্যু হয়।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, সড়ক দুর্ঘটনা, ওসমানীনগর, বাস দুর্ঘটনা, তদন্ত কমিটি, লাশের সারি


