হাওরের ফসল ১০-১২ দিনে কাটা শেষ হবে, জ্বালানি সংকট নেই: সুনামগঞ্জের ডিসি
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১১ জুন, ২০২৫ ৭:৩৫ অপরাহ্ন
শিশুদের মানসিক বিকাশ ও বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পেছনে একটি দৃষ্টিনন্দন শিশুপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ২০ শতক জায়গার উপর নির্মিত পার্কটিতে স্থাপন করা হয়েছে শিশুতোষ বিভিন্ন রাইড।
দোলনা, ঢেঁকিকল, স্লাইড, স্প্রিং রাইডিং ডাইনোসরসহ বিভিন্ন প্রকার রাইড রাখা হয়েছে পার্কটিতে। সবুজ ফুলের গাছে মোড়ানো পার্কের মাঝখানে স্থাপন করা হয়েছে সোনালী রংয়ের পানির ফোয়ারা। পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে স্থাপন করা হয়েছে ঘোড়া, জিরাফ, টেডি বিয়ার, মিকি মাউস ও পাখির ভাস্কর্য।
পার্কের দেয়ালে আঁকা প্রাকৃতিক নানা রকমের দৃষ্টিনন্দন চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে পার্কের সৌন্দর্য্য বাড়ানো হয়েছে কয়েকগুণ। প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ ও পার্কের পাশে থাকা উপজেলা পরিষদের দৃষ্টিনন্দন দীঘি পার্কটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে শুরু হওয়া পার্কটির কাজ অতিসম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কটির উদ্বোধন সম্পন্ন না করা হলেও ঈদুল আযহায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য পার্কটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় শিশুদের জন্য কোনো বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় একটি শিশুপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা। ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কটি নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় ৪ মাস।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে ঈদুল আযহার দিন থেকে ভ্রমনপিপাসুদের জন্য পার্কটি উন্মুক্ত রাখা হয়। ২০ টাকা ফি দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। ঈদের ৫ দিনে পার্কে টিকিট কেটে প্রবেশ করেছেন ৫ শতাধিক ভ্রমণকারী।
বুধবার (১২ জুন) বিকেলে পার্কটিতে গিয়ে দেখা যায়, শিশু-কিশোর ও প্রাপ্ত বয়স্ক অর্ধ-শতাধিক ভ্রমনপিপাসুর ভীড়। মা-বাবার সাথে ঘুরতে আসা শিশুদের কেউ দোলনায় চড়ছেন, কেউ চড়ছেন ঢেঁকিকলে। কেউ বা স্লাইডের উপর থেকে পিছলে পড়ছেন নিচে।
আর সেসব দৃশ্য নিজেদের মুঠোফোনে ক্যামেরাবন্দি করছেন শিশুদের অভিভাবকরা। কিশোররা ব্যস্ত ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে।
সপরিবারে পার্কে ঘুরতে আসা শান্তিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতিতে চাকুরীরত সাদিকুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ শিশু পার্কে ঘুরতে আসলাম। অত্যন্ত সুন্দরভাবে পার্কটি সাজানো হয়েছে। মনোরম পরিবেশ। এধরনের পার্কে খেলাধুলা করলে শিশুদের মন-মানষিকতা ভালো থাকে। তাদের মানষিক বিকাশ ঘটে।
বাবার সাথে পার্কে ঘুরতে আসা উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামের শিশু নাফিজা রুহি ও আদিবা জান্নাত জারা জানান, আমাদের উপজেলায় এতো সুন্দর একটি পার্ক করা হয়েছে। বাবার সাথে এখানে এসে খেলাধুলা করলাম। আমাদের ভীষণ ভালো লাগছে।
ময়মনসিংহ থেকে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসা শিক্ষক গোলাম রব্বানি বলেন, 'ঈদ ছুটিতে শ্বশুড় বাড়ি বেড়াতে আসছিলাম। শুনলাম এখানে একটি সুন্দর পার্ক হয়েছে। তাই ছোট ভাইদের সাথে আসলাম। এর কারুকর্ম দারুণ হয়েছে। পরিবেশটাও চমৎকার। স্বপরিবারে ঘুরার মতো যথেষ্ট সুন্দর একটি জায়গা।'
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা বলেন, 'শান্তিগঞ্জ উপজেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য কোনো পার্ক না থাকায় তাদের শারিরীক ও মানষিক বিকাশের চিন্তা থেকেই শিশু পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াজনিত কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কটির উদ্বোধন না করা গেলেও ইতিমধ্যে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে আসছেন। যেহেতু পার্কটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে স্থাপন করা হয়েছে তাই উপজেলা পরিষদের কাজে যাতে কোনোরুপ বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য সপ্তাহের ৩ দিন নির্দিষ্ট সময়ে পার্কটি উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে।'
শিশুপার্ক, শান্তিগঞ্জ, পর্যটন