ওসমানীনগরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১২ আগস্ট, ২০২৬ ৯:২৮ অপরাহ্ন
সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকা হত্যার ঘটনায় আটক বাবুল মিয়ার হাতে ইংরেজি বড় হাতের অক্ষর ‘এন’ লেখা রয়েছে। এতে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে তাকে আটকের পর হাতে বড় করে ‘এন’ অক্ষর লেখা দেখা গেছে।
ছবিতে দেখা গেছে, বাবুলের বাম হাতের তালু ও কনুইয়ের মাঝামাঝি স্থানে কালো রঙ সদৃশ বড় করে স্পষ্টভাবে ইংরেজি ‘এন’ অক্ষর লেখা রয়েছে।
ছবিতে আরও দেখা গেছে, তার ডান হাতের অনামিকা ও কনিষ্ঠা আঙুল দুটি একসঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় ব্যান্ডেজ করা। একইভাবে বাম হাতের এই দুই আঙুল আলাদাভাবে ব্যান্ডেজ করা রয়েছে।
পুলিশ বলছে, ট্রিপল হত্যাকাণ্ডে নিহত গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক চলছে। তাহমিনার নামের ইংরেজি প্রথম অক্ষর 'টি'। কিন্তু বাবুলের হাতে 'এন' লেখা কেন এ নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
বাবুলের হাতে ইংরেজি ‘এন’ অক্ষরটি কেন বা কী উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিলো এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, এখনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে হয়তো এই বিষয়ে জানা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে আছে।’
এর আগে বাবুলকে আটকের পর এক ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, বাবুল মিয়া ওই বাসায় রঙের কাজ করতেন। সেই সূত্রে গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল নয়টার দিকে তিনি অনৈতিক কাজের উদ্দেশ্যে ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরে তাহমিনার সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। এরপর গৃহকর্তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও আঘাত করা হয়। পরে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁকেও হত্যা করে বাবুল পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে বাবুলের হাতে লেখা ‘এন’ অক্ষরের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, অথবা অক্ষরটির কোনো বিশেষ অর্থ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ওই বাসার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (১৫)। গৃহকর্মী তাহমিনা নগরীরর জল্লারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আপ্তাব মিয়ার মেয়ে।
নিহত আব্দুস সাত্তার মিতালী আবাসিক এলাকার প্রথম বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাসার ভেতরে নারীদের চিৎকার শোনেন প্রতিবেশিরা। পরে আর কোনো সাঁড়াশব্দ পাননি। সকাল ১০টার দিকে ১১১ নম্বর বাসার দু’তলার বারান্দায় রক্ত দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সুরতহাল প্রতিবেদন ও সকল আলামত সংগ্রহ করার পর বিকেল চারটার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। এনছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লেদি, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
বাবুল মিয়া, সিলেট হত্যাকাণ্ড, রায়নগর, রহস্য, ট্রিপল মার্ডার, গ্রেফতার