বানিয়াচংয়ে এসএসসিতে পাসের হার ৪৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ জন
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ১০ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৩৪ অপরাহ্ন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় পাস করেছেন ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। একইসঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়েছে আরও ২৬ জন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০ টায় সারা দেশের ন্যায় সিলেট শিক্ষাবোর্ড ফলাফল প্রকাশ করলে এ তথ্য জানা যায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বানিয়াচংয়ের ২৭টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ১৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৬৭ জন। উপজেলায় গড় পাসের হার ৪৪ দশমিক ০২ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পাসের হারে উপজেলায় এবার সেরা হয়েছে আড়িয়ামুগুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ১৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মহারত্নপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ৮১ শতাংশ।
এরপর রয়েছে বালাগোড়াখালি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (৫৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ), ইকরাম নন্দপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (৫৪ দশমিক ১০ শতাংশ), বানিয়াচং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (৫১ দশমিক ৬১ শতাংশ), বি.জি.এম উচ্চ বিদ্যালয় (৫১ দশমিক ৫২ শতাংশ), আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয় (৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ), বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৫০ দশমিক ২২ শতাংশ) ও মন্দরী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (৫০ শতাংশ)।
অন্যদিকে, উপজেলার সবচেয়ে কম পাসের হার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটির ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২৮ জন। পাসের হার ২৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
এরপর রয়েছে মেধা বিকাশ উচ্চ বিদ্যালয় (৩১ দশমিক ৪৩ শতাংশ), হিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় (৩২ দশমিক ৮৪ শতাংশ), হানিফখান উচ্চ বিদ্যালয় (৩৫ দশমিক ৯২ শতাংশ), মুরাদপুর উচ্চ বিদ্যালয় (৩৬ দশমিক ০৭ শতাংশ), বক্তারপুর আবুল খয়ের উচ্চ বিদ্যালয় (৩৬ দশমিক ৫২ শতাংশ), ডা. ইলিয়াস একাডেমি ও দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয় (৩৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ) এবং নাগুড়া ফার্ম উচ্চ বিদ্যালয় (৩৯ দশমিক ০২ শতাংশ)।
এদিকে জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বানিয়াচং সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন।
বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, এলআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কাদিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মেধা বিকাশ উচ্চ বিদ্যালয় ও ডা. ইলিয়াছ একাডেমি থেকে দুজন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
এ ছাড়া আড়িয়ামুগুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়, সাতগ্রাম একতা উচ্চ বিদ্যালয়, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, সন্দলপুর বি.সি. উচ্চ বিদ্যালয় ও ইকরাম নন্দপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এসএসসির পাশাপাশি বানিয়াচংয়ের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলেও তুলনামূলক ভালো চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, উপজেলার ছয়টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২০৭ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন।
বানিয়াচং সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই দুটি জিপিএ-৫ এসেছে।
বিএসডি বালিকা আলিম মাদ্রাসায় ৩৭ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। জামেয়া রেদওয়ানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০ জনের মধ্যে ১২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬০ শতাংশ।
কুমড়ী নজরপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৩১ জনের মধ্যে ২০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। দুরগাহপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করেছে, পাসের হার ৫৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। উত্তর সাগর সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে আটজন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪২ দশমিক ১০ শতাংশ।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষায় এবার বানিয়াচংয়ে ফলাফল তুলনামূলক দুর্বল। উপজেলার তিনটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৮৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গড় পাসের হার ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে তুলনামূলক কম পাসের হারের মধ্যেও কারিগরি বিভাগে পাঁচজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কারিগরি বিভাগে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এখান থেকেই সর্বোচ্চ চারটি জিপিএ-৫ এসেছে।
বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (ভোকেশনাল) থেকে ৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, সুফিয়া মতিন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
এসএসসি ফলাফল, পাসের হার, জিপিএ-৫, মাধ্যমিক শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিলেট শিক্ষাবোর্ড