সিলেটে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ২ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৪৮ অপরাহ্ন
প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের অন্যতম প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণ ও পর্যটন কার্যক্রমে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। নির্দেশনায় হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের পরিচালনায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব হাউসবোট ও ট্যুর অপারেটরকে জেলা প্রশাসনের কাছে নিবন্ধনের আবেদন করতে বলা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। তবে আজ রোববার রাত ৮টার দিকে গণবিজ্ঞপ্তিটি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিতও করেন ডিসি মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসিএ ঘোষিত এলাকার অভ্যন্তরে সব ধরনের ব্যক্তিগত হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি হাউসবোট ও নৌযানে পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে। উচ্চস্বরে গান বাজানো, মাইক ব্যবহার কিংবা কোনো ধরনের পার্টির আয়োজন করা যাবে না। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রতিটি নৌযানে বিশুদ্ধ পানির জন্য ফিল্টারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এছাড়া প্রতিটি হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের নম্বর নৌযানে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের পাশাপাশি বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখতে হবে। কোনো ধরনের বর্জ্য হাওর বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না।
জেলা প্রশাসন আরও জানায়, হাউসবোটের মালিক ও ট্যুর অপারেটরদের প্রতিটি ভ্রমণ শেষে বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে এবং আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে সব হাউসবোট ও ট্যুর অপারেটরকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে সংশ্লিষ্ট হাউসবোট বা নৌযানকে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটনের বিস্তার ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণ, শব্দদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নানা অভিযোগ বাড়ছিল। এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে এনে হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতেই নতুন নির্দেশনাগুলো জারি করা হয়েছে।না এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গুয়ার হাওর, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গুয়ার হাওরে ১১ নির্দেশনা, জেলা প্রশাসন, হাউসবোট, ট্যুর অপারেটর, টাঙ্গুয়ার হাওর পর্যটন, ইসিএ, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা