শান্তিগঞ্জে তিন দিন ধরে নিখোঁজ শিশু মারুফ, সন্ধান চায় পরিবার
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২ আগস্ট, ২০২৬ ৬:৫১ অপরাহ্ন
‘আমি কিতা কইতাম, আমার আর কিচ্ছু নাই। স্বামী ছাড়া আমার আর সম্বল রইল না গো। দুইটা ছোট বাচ্চা লইয়া আমি কেমনে বাঁচমু?’ কথাগুলো বলতে বলতেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন চম্পা দেবনাথ। তার চোখের সামনে সাদা কাপড়ে মোড়ানো স্বামীর নিথর দেহ। চারদিকে স্বজনদের আহাজারি। আর দুই বছর বয়সী ছেলে ও পাঁচ বছরের মেয়েটি বুঝে উঠতে পারছে না, কেন তাদের বাবাকে ঘিরে এত কান্না।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মইয়ার হাওরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর রোববার সকালে উদ্ধার করা হয় হেমেন্দ্র দেবনাথের (৩৫) মরদেহ। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় অধীর দেবনাথের (৩৫) মরদেহও। এর মধ্য দিয়ে কীর্তন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার হলো।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত আটটার দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার নয়জন বাসিন্দা একটি নৌকায় করে পাশের ভরাউট এলাকায় কীর্তন অনুষ্ঠানে যান। অনুষ্ঠান শেষে রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাড়ি ফেরার সময় মইয়ার হাওরের বালুচর এলাকায় হঠাৎ দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় থাকা নয়জনের মধ্যে পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও চারজন পানিতে তলিয়ে যান।
শনিবার উদ্ধার করা হয় অরুণ দেবনাথ (৪৫) ও সত্যেন্দ্র নাথ সতীর (৬৫) মরদেহ। রোববার সকালে উপজেলার রুয়ারকারা এলাকায় হাওরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করেন হেমেন্দ্র দেবনাথ ও অধীর দেবনাথের মরদেহ।
হেমেন্দ্র দেবনাথ পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে স্ত্রী চম্পা দেবনাথ ও দুই শিশুসন্তান এখন অনিশ্চয়তার মুখে। প্রতিবেশীরা জানান, দিনমজুরির আয়ে কোনোমতে চলত পরিবারটি। সেই আয়ের পথও এক মুহূর্তে বন্ধ হয়ে গেছে।
নিহতদের স্বজন জয়িতা দেবনাথ বলেন, তাদের এলাকায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা আগে ঘটেনি। নিহত চারজনই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে প্রতিটি পরিবার এখন চরম সংকটে পড়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
নৌকাডুবির খবর পেয়ে শনিবার সকালে সুনামগঞ্জ ও সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযানে অংশ নেন। তবে হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং দুর্ঘটনাস্থল নির্দিষ্ট করতে না পারায় প্রথম দিন দুজনের বেশি মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় বাকি দুজনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতদের স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, মইয়ার হাওর, নৌকাডুবি, কীর্তন থেকে ফেরার পথে নৌকাডুবি, চারজনের মৃত্যু, হেমেন্দ্র দেবনাথ, অরুণ দেবনাথ, অধীর দেবনাথ, সত্যেন্দ্র নাথ সতী, হাওর দুর্ঘটনা