শান্তিগঞ্জে তিন দিন ধরে নিখোঁজ শিশু মারুফ, সন্ধান চায় পরিবার
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহত হালিমা খাতুন (২২) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের বাসিন্দা। চার মাস আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী সুনু মিয়ার সঙ্গে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে হালিমার শয়নকক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের চাচা সিরাজ মিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে হালিমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। তার দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার পর হালিমার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে হত্যা বলে অভিযোগ করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নজমুদ্দিন বলেন, মেয়ের স্বজনেরা ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করলে দুই পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তরে সহযোগিতা করা হয়।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, হালিমা খাতুন, নববধূর মৃত্যু, ঝুলন্ত মরদেহ, যৌতুকের অভিযোগ, যৌতুক নির্যাতন, জগন্নাথপুর থানা, ময়নাতদন্ত