হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা এনসিপি নেতাদের
শ্রীমঙ্গলে ব্যারিকেড ভেঙে গিয়ে বাহুবলে আটকা, পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মামলার প্রস্তুতি
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২৯ জুলাই, ২০২৬ ৮:১১ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলের পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের দিকে যান তারা। বুধবার বিকেলে ৫টার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা কন্যা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ তারা হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে না পেরে জেলার বাহুবল উপজেলার মুসাই নামক স্থানে অবস্থান করছেন। এর আগে হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে না পেরে ওই এলাকায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ নেতারা রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পুলিশ ও এনসিপি জানায়, গত ২৮ জুলাই বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখান বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীর হামলার শিকার হওয়ার পর ওই রাতে সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এসে রাত যাপন করেন।
বুধবার সকালের দিকে ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারে আসেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অনেকে। মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে দলটির প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে রওনা দেন তারা।
এর আগে হবিগঞ্জ শহরে একই স্থানে এনসিপি ও ছাত্রদল প্রতিবাদ সভা আহ্বান করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি করেন সেখানকার জেলা প্রশাসক।
পুলিশ জানায়, অন্যদিকে শ্রীমঙ্গলের চা কন্যা এলাকা পাড়ি দিয়ে খানিক দূরে হবিগঞ্জ জেলার সীমানা। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপি নেতাদের প্রতিহত করার জন্য অবস্থান নেয়। এতে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে চরম পরিস্থিতির আশঙ্কা করে পুলিশ। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা দেয়।
একই সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি মৌলভীবাজারে পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তারা এতে কোনো কর্ণপাত না করে জেলা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এনসিপি নেতারা।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বড় ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রীমঙ্গলের চা কন্যা নামক স্থানে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। হবিগঞ্জ সীমানায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহতে অবস্থান নিয়েছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না হয় সে লক্ষ্যে এনসিপি নেতাদের বাধা দেওয়া হয়েছিল। তারা বাধা না মেনে হবিগঞ্জের দিকে চলে গেছেন।
এদিকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম হবিগঞ্জ যাওয়ার পূর্বক্ষণে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে ঘটা ঘটনার বর্ণনা দেন।
এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি-ছাত্রদল ও স্থানীয় এমপির সন্ত্রাসী বাহিনী রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ২০ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। পরবর্তীতে প্রশাসন ও বিএনপি নাটক সাজিয়ে আমাদের রাজনৈতিক অধিকারকে খর্ব করতে পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। এতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তিনি বলেন, আমরা সেখানে (হবিগঞ্জ) যাব।
এনসিপি, মৌলভীবাজার, নাহিদ-সারজিস