৩০ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / আন্দোলন-বিক্ষোভ

হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা এনসিপি নেতাদের

শ্রীমঙ্গলে ব্যারিকেড ভেঙে গিয়ে বাহুবলে আটকা, পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মামলার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৯ জুলাই, ২০২৬ ৮:৫২ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে একাধিক স্থানে বাধা দিয়েছে পুলিশ। মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে বুধবার বিকেলে প্রথমে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় তাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। পরে প্রায় আধাঘণ্টা পর নেতারা সেখানে থেকে রওনা দিলেও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মুছাই এলাকায় আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।

 

সর্বশেষ রাত সাড়ে ৮টার পর্যন্ত হবিগঞ্জের বাহুবলের মুছাই এলাকায় অবস্থান করছেন এনসিপি নেতারা। সেখানে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এনসিপির নেতারা। কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

 

এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে তাদের গাড়িবহর পুলিশ আটক করে রাখে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টায় শুধু মামলা দায়ের করতে হবিগঞ্জ থানায় যেতে চাইলেও পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে রাত ৮টায় বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মামলা দিতে বলে। পুলিশ বিএনপি সরকার ও তাদের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে তাদের শান্তিপুর্ণ কর্মসুচি পালনে বাধা দিয়েছে। 

 

এদিকে, কামাইছড়া পুলিশ ফাড়ির সামনেই বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এছাড়া বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা করে জেলা যুবদল। 

 

হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসুচিতে কেন্দ্র করে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে ১৪৪ ধারা ভেঙে সভা করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাদের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কামাইছড়ায় অবস্থান নেয়।

 

এর আগে বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলের পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রওয়ানা দিয়েও হবিগঞ্জে যেতে পারেননি তারা। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মধ্যবর্তী লুছাই নামক স্থানে ফের আটকা পড়েছেন তারা। এটি হবিগঞ্জের বাহুবল থানার আওতাধীন এলাকা। 

 

পুলিশ ও এনসিপি জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখান বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীর হামলার শিকার হওয়ার পর ওই রাতে সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এসে রাত যাপন করেন। 

 

বুধবার সকালের দিকে ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারে আসেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অনেকে। মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে দলটির প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে রওনা দেন তারা। 

 

এর আগে হবিগঞ্জ শহরে একই স্থানে এনসিপি ও ছাত্রদল প্রতিবাদ সভা আহ্বান করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি করেন সেখানকার জেলা প্রশাসক।

 

অন্যদিকে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপি নেতাদের প্রতিহত করার জন্য অবস্থান নেয়। এতে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে চরম পরিস্থিতির আশঙ্কা করে পুলিশ। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা দেয়। 

 

একই সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি মৌলভীবাজারে পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এনসিপি নেতারা।

 

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বড় ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রীমঙ্গলের চা কন্যা নামক স্থানে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। হবিগঞ্জ সীমানায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহতে অবস্থান নিয়েছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না হয় সে লক্ষ্যে এনসিপি নেতাদের বাধা দেওয়া হয়েছিল। তারা বাধা না মেনে হবিগঞ্জের দিকে চলে গেছেন।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

এনসিপি, হবিগঞ্জ, কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ি, মামলার প্রস্তুতি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ