আদালত চত্বরে ফের হামলার শিকার ফাহিমা হত্যা মামলার প্রধান আসামি
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১:১০ অপরাহ্ন
সিলেট আদালত চত্বরে আবারও হামলার শিকার হয়েছেন শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন। আদালতে হাজিরার জন্য কারাগার থেকে আনার পর তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালান একদল লোক। এ সময় তাকে মারধর করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ২৩ জুন একই আদালত প্রাঙ্গণে জাকিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আদালত চত্বরে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন নিহত ফাহিমার স্বজন ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। প্রিজন ভ্যান থেকে আদালত ভবনের দিকে নেওয়ার সময় তারা জাকিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালান এবং মারধর করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জাকিরকে আদালতের ভেতরে নিয়ে যান।
তবে হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিমার এক চাচা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ। তার অভিযোগ, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামিপক্ষের অনুকূলে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একই আসামির ওপর আদালত প্রাঙ্গণে বারবার হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই আদালতে আনা–নেওয়া করা হয়। তারপরও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরের ১১ মে রাতে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
এদিকে, ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি হিসেবে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির একই গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা এবং সম্পর্কে শিশুটির চাচা।
মামলার তদন্তে পুলিশ জানায়, গত ৬ মে ফাহিমা নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর, ৮ মে ভোররাতে তার মরদেহ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, জাকির প্রথমে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সেটি পানিতে না ডোবায় ডোবার পাশেই ফেলে রেখে যান। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর জাকির পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজিরার সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, পুলিশ জোর করে তার কাছ থেকে ওই জবানবন্দি আদায় করেছে।
ফাহিমা হত্যা মামলা, জাকির হোসেন, সিলেট আদালত, আদালত চত্বরে হামলা, সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ফাহিমা হত্যা, সিলেট মহানগর পুলিশ