
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অবশেষে নদ-নদীতে নতুন পানি আসতে শুরু করেছে। নতুন পানিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরতে সৌখিন শিকারিদের মাঝে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। অন্য বছর বৈশাখের শেষ দিকে জগন্নাথপুরে বর্ষার পানি আসলেও এবার জ্যৈষ্ঠের শেষে পানি এসেছে।
এদিকে বৈশাখ পার হতে লাগলেও নতুন পানি না আসায় উপজেলাজুড়ে মাছের আকাল দেখা দিয়েছিল। অবশেষে অনেক দেরিতে হলেও পানি আসায় জনমনে স্বস্তি বিরাজ করছে।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে নদ-নদীতে নতুন পানি আসতে শুরু করে। মঙ্গলবার (৩ জুন) সকালে দেখা যায়, জগন্নাথপুর পৌর শহরের নলজুর নদীর সুইস গেইট সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরার হিরিক পড়েছে। এছাড়া নতুন পানি আসায় খাল, নালাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ শিকারের হিড়িক পড়েছে।
বিভিন্ন ধরণের জাল দিয়ে মাছ শিকারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সৌখিন শিকারিরা। এ যেন গ্রাম বাংলার চিরচেনা রূপ। যা প্রতিবছর নতুন পানি আসলে দেখা যায়।
নতুন পানিতে মাছ ধরার দৃশ্য দেখে বাবুল দাস বলেন, 'এটি হচ্ছে গ্রাম বাংলা আসল রূপ। প্রতিবছর এই সময়ে নতুন পানি আসলে নানা পেশার মানুষ মাছ ধরেন। এটি রীতিমতো মাছ ধরা উৎসব বলা যেতে পারে।'
নদীতে মাছ ধরতে আসা সৌখিন শিকারিদের মধ্যে অনেকে বলেন, নতুন পানিতে দেশীয় মাছ ধরার আনন্দই আলাদা।
সচেতন মহলের অনেকে জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে প্রচণ্ড গরম থেকে রক্ষা হয়েছে। একইসাথে অনেক পরে হলেও নতুন পানি আসায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। শুধু তাই নয়, বৃষ্টিপাতে গরম হ্রাস পাওয়ায় ও নদীতে নতুন পানি আসায় জনজীবনের সাথে অগ্নিমূর্ত প্রকৃতিতেও যেন শান্তির পরশ লেগেছে।
এখন নতুন পানির সাথে আসা দেশীয় প্রজাতির সকল মাছের পোনা রক্ষা করতে হবে। তাহলে পুনরায় জগন্নাথপুর উপজেলার সকল খাল-বিল, নদী-নালা ও হাওর নানা প্রজাতির মাছে ভরে যাবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, 'এখন নদীগুলোতে বর্ষার পানি আসতে শুরু করেছে। অচিরেই হারওগুলো পানিতে ভরে যাবে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে।'
তিনি বলেন, 'পোনামাছ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এসব পোনামাছ রক্ষা হলেই আবারও মাছে মাছে সয়লাব হয়ে যাবে জগন্নাথপুর। কোথাও আর মাছের আকাল থাকবে না। তাই পোনামাছ রক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।'
মৎস্যজীবিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'পোনামাছ মারা ও বিক্রিকরা দন্ডনীয় অপরাধ। আপনারা এসব পোনামাছ ধরবেন না। পোনা মাছকে বড় হতে দিন। পরে এসব মাছ তো আপনারাই ধরবেন। মাছ বড় হলে আপনারাই লাভবান হবেন। তাই কোন অবস্থায় পোনামাছ মারা যাবে না।
এদিকে পোনামাছ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান মৎস্য কর্মকর্তা। তিনি বলেন, 'আপনারা কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হন তা আমরা চাই না। সবার প্রতি আহ্বান, আসুন আমরা সবাই মিলে দেশ ও জাতির স্বার্থে পোনামাছকে রক্ষা করি। তা হলেই মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ হবে দেশ।'
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
নতুন পানিতে মাছ ধরার হিড়িক, পানি, জগন্নাথপুর,


