হাওরের ফসল ১০-১২ দিনে কাটা শেষ হবে, জ্বালানি সংকট নেই: সুনামগঞ্জের ডিসি
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৩ জুন, ২০২৫ ১২:৪১ অপরাহ্ন
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কামারপল্লিগুলোতে বেড়েছে ব্যাপক কর্মব্যস্ততা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ নানা লৌহজাত সরঞ্জাম তৈরিতে দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন কর্মকাররা।
ঈদ ঘনিয়ে আসায় সব ক্লান্তি ভুলে ভাঁতির তাপে দগদগে গরম লোহার ওপর হাতুড়ির একের পর এক আঘাতে তৈরি হচ্ছে এসব প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। কর্মকারদের শরীর ঘামে ভিজে একাকার, চোখে-মুখে কয়লার কালি।
সরজমিনে, জগন্নাথপুর বাজার, সাধু সাদক গ্রাম, আধুযা, মিরপুর বাজার ও রানীগঞ্জ বাজারের কামারপল্লিতে গিয়ে দেখা গেছে টানা কাজ করছেন কামাররা। কেউ দিচ্ছেন শান, কেউ টানছেন ভাঁতিতে আগুন, কেউ বা সহযোগিতা করছেন অন্যদের। কাপড় ও শরীর মলিন কয়লার ধুলায়। আরাম-আয়েশের সুযোগ নেই, শুধু কাজ আর কাজ।
সোমবার (১ জুন) সকালে জগন্নাথপুর বাজারের কামারপল্লিতে কথা হয় ব্যস্ত কর্মকার মনা দেব, কান্ত দে ও জনি পালের সঙ্গে। তারা জানান, কয়লা ও লোহাসহ কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরঞ্জাম তৈরির খরচও বেড়েছে। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় রয়েছেন, বিকল্প কোনো কাজ জানা না থাকায় এই শিল্পের উপরই নির্ভর করতে হয়।
তারা আরও জানান, প্রায় ৪০-৪৫ বছর ধরে দা, ছুরি, বটি, ছোরা, কুড়াল, কোদাল, হাতুড়ি তৈরি করে আসছেন। ব্যক্তিগতভাবে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। এবছর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কোরবানির পশু ও সরঞ্জামের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
অন্যদিকে ক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, দাম বাড়ায় অনেকে পুরোনো দা-বটি শান দিয়ে ব্যবহার করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ আলী ও জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, বাজারে এখন একটি বড় দা আকার ও ওজনভেদে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাপাতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, ছোরা ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, ছোট ছোরা ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং বটি ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শান দেওয়ার জন্য নিচ্ছেন ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। তবে আকার বড় হলে খরচ আরও বেড়ে যায়।
জগন্নাথপুর কামারপল্লি, ঈদুল আজহা প্রস্তুতি, দা ছুরি তৈরি, কামার শিল্প