১৫ জুলাই ২০২৬

অপরাধ-বিচার / বিচার

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়

৫ বছর আগে ফেসবুকে নির্দোষ দাবি করা দুই আসামিই পেলেন খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৬:৪৫ অপরাহ্ন


আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলার ঘটনার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থেকেই ফেসবুকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন দুই তরুণ। পাঁচ বছর পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ে তাদের সেই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আলোচিত এ মামলায় ওই দুজনসহ চারজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।


মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন।


খালাস পাওয়া চারজন হলেন দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম, কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দি গ্রামের সালিক আহমদের ছেলে মাহফুজুর রহমান মাসুম, সিলেট নগরের গোলাপবাগ এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আইনুদ্দিন (আইনুল) এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার টেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের ছেলে মিজবাউল ইসলাম রাজন।


ঘটনার পরই ফেসবুকে নির্দোষ দাবি
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার পরদিন, যখন পুলিশ আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছিল, তখন আত্মগোপনে থেকেই ফেসবুকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম।


রবিউল ইসলাম তার স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, তিনি এমসি কলেজের শিক্ষার্থী হলেও কখনো ছাত্রাবাসে থাকেননি এবং ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


একই দিনে মাহফুজুর রহমান মাসুমও ফেসবুকে দাবি করেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি লিখেছিলেন, যদি তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে প্রকাশ্যে শাস্তি মেনে নেবেন। পাশাপাশি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার কথাও উল্লেখ করেন।


পরে ওই দিন সন্ধ্যার মধ্যেই তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আর সচল পাওয়া যায়নি। সে সময় শাহপরাণ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।


একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
একই রায়ে বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


এছাড়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার তারেকুল ইসলাম তারেক এবং জকিগঞ্জ উপজেলার অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।


যে ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশকে
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে যান দক্ষিণ সুরমা উপজেলার এক বাসিন্দা। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের জোর করে কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।


খবর পেয়ে রাতেই শাহপরাণ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতিকে উদ্ধার করে। ধর্ষণের শিকার তরুণীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার শিকার তার স্বামীও চিকিৎসা নেন।


দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে প্রায় পাঁচ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা হলো।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলা, এমসি কলেজ রায়, সিলেট আদালত, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, রবিউল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান মাসুম

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ