হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে ১১ হাজার পরিবার পানিবন্দী, উচ্চ ঝুঁকিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১০ জুলাই, ২০২৬ ৬:৪১ অপরাহ্ন
সিলেট জেলার প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে সারিগোয়াইন ও পিয়াইন নদীর পানি কমতে দেখা গেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) দৈনিক পর্যবেক্ষণ বুলেটিনে এ তথ্য জানা গেছে।
বাপাউবোর সিলেট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১১টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি সমতল পরিমাপ করা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ পয়েন্টে পানি এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ৪২ মিটার, যা বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ দশমিক ৪১ মিটারে স্থিতিশীল থাকে। এই পয়েন্টের বিপদসীমা ১২ দশমিক ৯৫ মিটার।
সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সকাল ৬টায় ৯ দশমিক ৬৫ মিটার থেকে বেড়ে সন্ধ্যা ৬টায় তা দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৭০ মিটারে। এই পয়েন্টের বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার।
কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানি ছিল ১৪ দশমিক ৫৬ মিটার, যা দুপুর ও বিকেলে বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৬০ মিটারে। এই পয়েন্টের বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৮০ মিটার।
শেওলা পয়েন্টে পানি বেড়ে সকাল ৬টার ১২ দশমিক ০৮ মিটার থেকে সন্ধ্যা ৬টায় দাঁড়ায় ১২ দশমিক ১৪ মিটারে। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টেও একই প্রবণতা দেখা গেছে, সকাল ৯ দশমিক ৫২ মিটার থেকে সন্ধ্যায় বেড়ে হয় ৯ দশমিক ৬০ মিটার।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা কুশিয়ারার শেরপুর পয়েন্টে। এই পয়েন্টের বিপদসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটার, যেখানে সন্ধ্যা ৬টায় পানির সমতল দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৫ মিটারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৩৮ মিটার থেকে বেড়ে বিপদসীমার প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে।
অন্যদিকে সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি কমতির দিকে। সকাল ৬টায় ১০ দশমিক ৪৫ মিটার থেকে সন্ধ্যা ৬টায় তা নেমে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ২৩ মিটারে। গোয়াইনঘাট পয়েন্টেও সারিগোয়াইনের পানি কমে সকালের ৯ দশমিক ৫৮ মিটার থেকে সন্ধ্যায় দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫২ মিটারে।
পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা আরও স্পষ্ট। সকাল ৬টায় ১০ দশমিক ০৩ মিটার থাকা পানি সন্ধ্যা ৬টায় নেমে আসে ৯ দশমিক ৮৬ মিটারে। এই পয়েন্টের বিপদসীমা ১৩ মিটার।
লোভা নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে সকালের ১২ দশমিক ৮৩ মিটার থেকে সন্ধ্যায় সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৮৫ মিটার। ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানি সামান্য কমে সকালের ৯ দশমিক ৩০ মিটার থেকে সন্ধ্যায় দাঁড়ায় ৯ দশমিক ২৮ মিটারে। এই দুটি পয়েন্টের বিপদসীমা নির্ধারিত নেই বলে বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেট, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সুরমা, কুশিয়ারা, বন্যা