জঙ্গি আতঙ্কে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদার
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২ জুন, ২০২৫ ৪:৫০ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের যাতায়াতব্যবস্থায় ইজিবাইক ও অটোরিকশা এখন সাধারণ মানুষের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই যানবাহনগুলোর ভাড়া নিয়ে চলমান নৈরাজ্য ও অতিরিক্ত চাহিদা দিন দিন যাত্রীদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। যে শহরের মানুষ প্রতিদিন স্কুলে, কলেজে, অফিসে কিংবা বাজারে যান—তাদেরই যেন সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছে এ ভাড়া।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার (০২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় আলফাত স্কয়ারে সচেতন সুনামগঞ্জবাসীর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রোদঝলমলে সকালের সেই কর্মসূচিতে মানুষ এসেছিলেন নিজ নিজ ক্ষোভ, অভিজ্ঞতা আর চাওয়া নিয়ে। আয়োজনটি ছিল ভিন্নমাত্রার—কারণ এটি ছিল নিছক কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে নয়, বরং জনসাধারণের নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি প্রতিবাদী মঞ্চ।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুখেন্দু সেন। সঞ্চালনায় ছিলেন বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কর্ণ বাবু দাস। বক্তব্য রাখেন, হাউস-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম পলাশ, সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হাসান আতাহার, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বারী সিদ্দিকী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীসহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ পিস এম্বাসেডর গ্রুপ, বিশ্বজন, পিএফজি-সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরাও।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শহরের ইজিবাইক ও অটোরিকশার ভাড়া সম্প্রতি অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্যাডে, কিন্তু এর পেছনে ছিল না কোনো জনমত, আলোচনার প্রক্রিয়া কিংবা শহরের বাস্তবতা বিবেচনা। যার ফলে রিকশা ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বচসা লেগেই থাকছে। অনেক সময় তা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ছাড়িয়ে হাতাহাতিতেও রূপ নেয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়া পাবেন এই নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ চালক তা মানতে রাজি নন। এতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দ্বিগুণ হয়েছে।
বক্তারা জানান, একটি শহরে গণপরিবহন যদি নাগরিকের জীবনযাত্রাকে সহজ না করে, বরং প্রতিনিয়ত বিতর্ক ও অশান্তির জন্ম দেয়, তবে সেটি শহরপরিকল্পনার ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি। এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন না হলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে আরও সোচ্চার হবে।
তাদের সুস্পষ্ট দাবি, পৌর শহরের প্রতিটি রুটে দূরত্ব বিবেচনায় যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং আলফাত স্কয়ারকে কোনোভাবেই রিকশা স্ট্যান্ডে পরিণত করা যাবে না। এসব বিষয়ে পৌর প্রশাসন, যানবাহন মালিক, চালক, যাত্রী এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে বসে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হবে। শহরের ভেতরে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে এবং চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস না থাকলে তা নিষিদ্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে অটোরিকশার নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে ডান পাশ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার দাবিও জানানো হয়।
মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে 'ইয়ুথ পিস এম্বাসেডর গ্রুপ' যাত্রীদের মাঝে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করে। এতে উল্লেখ করা হয় ভাড়া নিয়ে অশান্তি নয়, সম্মানের সঙ্গে যাতায়াতই হওয়া উচিত নাগরিক জীবনের মৌলিক অধিকার।
সুনামগঞ্জ ইজিবাইক ভাড়া, সুনামগঞ্জ অটোরিকশা নৈরাজ্য, ইজিবাইক ভাড়া মানববন্ধন