০৬ জুলাই ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

টাঙ্গুয়ার হাওরের অভয়াশ্রমে টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

প্রকাশঃ ৬ জুলাই, ২০২৬ ৪:২৪ অপরাহ্ন


আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত অভয়াশ্রমে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কমিউনিটি গার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ ঘিরে একটি অডিও–ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এক জেলের সঙ্গে রাতে অভয়াশ্রমে মাছ ধরার বিনিময়ে অর্থ লেনদেন নিয়ে কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।


অভিযোগের তিরে রয়েছেন টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কমিউনিটি গার্ড হবিব মিয়া। তিনি গোলাবাড়ি আনসার ক্যাম্পে নৌকার মাঝি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও–ভিডিওতে শোনা যায়, মধ্যনগর উপজেলার এক জেলে তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে রাতে অভয়াশ্রমে খোনা জাল ফেলে মাছ ধরার অনুমতি চান।


কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রতি নৌকার জন্য প্রথমে ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও পরে দর-কষাকষির পর তা ৪০০ টাকায় নির্ধারণ হয়। সেখানে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অডিওতে শোনা কণ্ঠস্বর হবিব মিয়ার সঙ্গে মিলে যায়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। হবিব মিয়ার ভাষ্য, ভিডিওতে যাদের কথা বলা হচ্ছে, তাদের তিনি চেনেন না। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এমন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।


টাঙ্গুয়ার হাওরের ওপর নির্ভরশীল জেলেদের অভিযোগ, সংরক্ষিত অভয়াশ্রমে রাতের বেলায় অবৈধভাবে মাছ ধরার ঘটনা নতুন নয়। তারা বলছেন, নিয়ম মেনে মাছ ধরলেও একটি অসাধু চক্র অভয়াশ্রমে প্রবেশ করে মাছ শিকার করায় প্রকৃত জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


ছিড়িয়ারগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের জেলে আব্দুল মালেক বলেন, রাতে অনেক সময় ইঞ্জিনচালিত নৌকা অভয়াশ্রমের ভেতরে যেতে দেখা যায়। তারা নিয়ম মেনে মাছ ধরেন বলে সেখানে যান না। কিন্তু অবৈধভাবে মাছ ধরার কারণে হাওরে মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।


ছিলানি তাহিরপুর গ্রামের জেলে নূর মিয়া বলেন, সংরক্ষিত এলাকাটি কার্যকরভাবে পাহারা দেওয়া প্রয়োজন। যারা টাকার বিনিময়ে বা অন্য কোনো উপায়ে অভয়াশ্রমে ঢুকে মাছ ধরে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।


তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের অভয়াশ্রমে অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। সেখানে নিয়মিত টহল ও নজরদারি পরিচালিত হচ্ছে এবং অবৈধ জাল উদ্ধার হলে তা ধ্বংস করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রসঙ্গত, টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত প্রায় ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টরের এ জলাভূমিতে রয়েছে ১০৯টি বিল। ১৯৯৯ সালে এলাকাটিকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। পরের বছর এটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি হিসেবে রামসার সাইটের স্বীকৃতি লাভ করে।


একসময় টাঙ্গুয়ার হাওর ছিল চিতল, মহাশোল, বাঘাইড়, রিটাসহ ১৪১ প্রজাতির দেশীয় মাছের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। কিন্তু দীর্ঘদিনের চোরাশিকার, অবৈধ মাছ আহরণ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতিই এখন অস্তিত্বসংকটে পড়েছে।


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

টাঙ্গুয়ার হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর অভয়াশ্রম, টাঙ্গুয়ার হাওর সংবাদ, অবৈধ মাছ শিকার, কমিউনিটি গার্ড, তাহিরপুর , মধ্যনগর , রামসার সাইট , সুনামগঞ্জ , মাছ সংরক্ষণ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ