০৫ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি / সরকার

স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বড় অংশই যথাযথ ব্যয় হয় না: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৪ জুলাই, ২০২৬ ২:১৬ অপরাহ্ন


একটি কাজ দুইভাবে করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, একটা কাজ যেকোনোভাবে করে ফেলে মুখ ঘুরিয়ে আরেকদিকে হাঁটা শুরু করা যায়। আবার একটা কাজ এফিশিয়েন্টলি করাও যায়, যাতে যে উদ্দেশ্যে কাজটি করা হয়েছে তার সার্থকতা থাকে এবং সেই রিটার্নটা পাওয়া যায়।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহের সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করব, গরিব দেশ হিসেবে যে বরাদ্দই আছে, সেটার পুরোপুরি বরকত যেন পাওয়া যায়, সেজন্য আমরা সমন্বিতভাবে চেষ্টা করব। তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, তাঁরা যেসব চাহিদাপত্র তৈরি করেছেন তা তাঁর সঙ্গে শেয়ার করতে, যাতে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। প্রয়োজনে পরবর্তীতে আবার বসার আশ্বাসও দেন তিনি।

আজকের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অন্তত প্রতি দুই মাসে একবার বসে অগ্রগতি পর্যালোচনার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, যেদিন আমরা পরবর্তীতে বসব, বসার আগে একটি ইনস্টিটিউট ঘুরে এসে তারপর বসব, তাহলে অগ্রগতি কোথায়, তা আমরা যেন ফিজিক্যালি ক্যারি করতে পারি, সেভাবে নিজেদের এলাইন করে নেব।

মন্ত্রী জানান, বর্তমান বাস্তবতার মধ্যেও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগ একটি সাহসী পদক্ষেপ, এবং সে অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বেড়ে বাজেটের প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে আউট অব পকেট মেডিকেল ব্যয়ের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ, যা নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তুলনায়ও বেশি।

এর চেয়ে বড় দুঃখের কথা হলো, যে পরিমাণ বরাদ্দ যায় তার একটা অংশ হারিয়ে যায়, প্রকৃত প্রয়োজনে ব্যয় হয় না। ফলে এই অর্থের বরকত আসে না, বলেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, যে সামান্য পরিমাণ প্রকৃত ব্যয় হয়, তা সন্তোষজনক নয়, এবং যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়ায় প্রত্যাশিত রিটার্নও আসে না।

সঠিক ব্যয় না হওয়ার পেছনে পরিকল্পনার দুর্বলতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক জায়গায় জনবল ও অবকাঠামো তৈরি করা হলেও তা সফলভাবে পরিচালনার মতো সমন্বয় অনেক ক্ষেত্রেই থাকে না। তিনি বলেন, অনেক ভবন আমরা তৈরি করেছি, কিন্তু সেই ভবনের ব্যবহারকারী কারা হবেন, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা হয়নি। শত শত কোটি টাকার ভবন তৈরি হয়ে বসে আছে।

তিনি আজকের সভাকে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য একটি আই ওপেনার বলে উল্লেখ করে বলেন, বিনিয়োগের প্রকৃত রিটার্ন তুলে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁরা দুটি পর্যায়ে কাজ করবেন বলে জানানএকটি মাস্ট রিকোয়ারমেন্ট (অপরিহার্য চাহিদা) এবং অন্যটি ❝আইডিয়াল রিকোয়ারমেন্ট❞ (আদর্শ চাহিদা), যাতে জরুরি প্রয়োজনগুলো আগে পূরণ করে বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা যায়।

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জিয়াউর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, বাণিজ্যমন্ত্রী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্বাস্থ্যসেবা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ