শান্তিগঞ্জে পঠন দক্ষতা ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ২৭ জুন, ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পঠন দক্ষতা মূল্যায়ন এবং সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল, আমরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এবং আক্তাপাড়া গ্রামের রূপা মিয়ার যৌথ অর্থায়নে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ইউনিয়নের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার মোট ৪৪০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা এবং বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পঠন দক্ষতার পরীক্ষা নেন। প্রথম ধাপে ৪৪০ জনের মধ্য থেকে ১৮০ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। পরে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে মেধাতালিকায় নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্যে ৪র্থ শ্রেণীর ৩০ জন এবং ৫ম শ্রেণী থেকে আরও ৩০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়।
এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ।
প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক ও দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফি মিয়া। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের পরিচালক মশিউর রহমান রাজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাছুম মিয়া, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল তালুকদার, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, অভিভাবক প্রতিনিধি রাজমিন বেগম এবং আমরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদ।
এ সময় শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, আবদুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুখময় দাশ, দরগাপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মালা রায়, হলদারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, সিচনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বেনু মজুমদার, হরিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কলি দাস, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীদের স্কুল ব্যাগ, ছাতা, খাতা ও কলম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদেরও আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়। চতুর্থ থেকে ১৫তম স্থান অর্জনকারীদেরও পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি খাতা ও দুটি কলম দিয়ে উৎসাহিত করা হয়।
অভিভাবক রাজমিন বেগম বলেন, "চেয়ারম্যান সুফি মিয়া আমাদের ইউনিয়নের শিক্ষার উন্নয়নে অসাধারণ কাজ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ বাড়বে এবং শিক্ষকদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাবে।"
চেয়ারম্যান সুফি মিয়া বলেন, "আমি শুধু একটি উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু এর সফলতার পেছনে শিক্ষক, অভিভাবক, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, গ্রাম পঞ্চায়েত ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা রয়েছে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার আগ্রহ ও সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। উপজেলার সব ইউনিয়নে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার বলেন, "চাকরি জীবনে এমন শিক্ষাবান্ধব ও উদ্যমী চেয়ারম্যান খুব কমই দেখেছি। তিনি নিজ উদ্যোগে শিক্ষার মানোন্নয়নে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অনুসরণযোগ্য। আমরা তাঁর এই মডেল উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।"
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বরও চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার উদ্যোগে ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেধা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই উদ্যোগটি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহার তত্ত্বাবধানে উপজেলা ও জেলা পর্যায় পেরিয়ে দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সুফি মিয়া জেলা প্রশাসনের সম্মাননাও লাভ করেন।
পঠন দক্ষতা, হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থী, শান্তিগঞ্জ, দরগাপাশা